
Telegram Ban: নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষা ((NEET-UG 2026 re-examination)-র আগে কেন্দ্র সরকারের জারি করা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হল জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম। কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী সোমবার, ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের পরিষেবা ব্লক রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০ জুন পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মটির মেসেজ এডিট করার সুবিধাও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, নিট-ইউজি পরীক্ষাকে ঘিরে সংগঠিত প্রতারণা চক্র টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেল ও গ্রুপ ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ানো, ভুয়ো প্রশ্নপত্র বিক্রি এবং পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার কাজ চালাচ্ছিল। সেই কারণেই জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা এটিএ-র সুপারিশে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারায় এই পদক্ষেপ করেছে।
মঙ্গলবার জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি দিল্লি হাই কোর্টে পেশ করা হয়। বিচারপতি তেজস কারিয়া মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন। টেলিগ্রামের পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এর ফলে কোটি কোটি বৈধ ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সংস্থার বক্তব্য, কিছু অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে পুরো প্ল্যাটফর্মের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে। আদালতে টেলিগ্রামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতে তাদের ১৫ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী রয়েছেন। সংস্থার সিইও পাভেল দুরভও কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, এর ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীরাই শাস্তি পাচ্ছেন, অথচ যারা পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত তারা অন্য প্ল্যাটফর্মে চলে যেতে পারে।
প্রসঙ্গত, গত মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর নিট-ইউজি পরীক্ষার ফল বাতিল করা হয়। বিহার ও রাজস্থান-সহ একাধিক রাজ্যে তদন্তে নেমে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। ২১ জুন পুনঃপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এবার পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুস্তরীয় নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র পরিবহণেও বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
NTA-র মতে, পুনঃপরীক্ষাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও প্রশ্নপত্র ফাঁসমুক্ত রাখতে টেলিগ্রামের উপর এই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে ডিজিটাল অধিকারকর্মীদের একাংশের দাবি, এমন পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং তথ্যপ্রাপ্তির অধিকারের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁদের মতে, একটি প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দিলেই প্রতারণা পুরোপুরি বন্ধ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।