TMC Rebellion: দিল্লিতে অভিষেক, ২০ বিদ্রোহী সাংসদের 'দলবদল' রুখতে স্পিকারের দ্বারস্থ

Published : Jun 19, 2026, 05:56 PM IST
TMC Rebellion: দিল্লিতে অভিষেক, ২০ বিদ্রোহী সাংসদের 'দলবদল' রুখতে স্পিকারের দ্বারস্থ

সংক্ষিপ্ত

দলে ভাঙন রুখতে দিল্লিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ নিজেদের NCPI-এর সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার যে ঘোষণা করেছেন, তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই তাঁর এই সফর। লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে তিনি জানাবেন, তৃণমূল একটি অখণ্ড দল এবং এই বিভাজন সংবিধানসম্মত নয়।

দলে বিদ্রোহের আঁচ বাড়তে থাকায় এবার আসরে নামলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার তিনি সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েনকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি পৌঁছেছেন। লক্ষ্য, দলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া। এই সাংসদরা সম্প্রতি 'ন্যাশানালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া' (NCPI)-র সঙ্গে মিশে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। এই বিষয়েই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করবে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল।

তৃণমূল কংগ্রেস এই মুহূর্তে দুই দিক থেকে বিদ্রোহের মুখে পড়েছে। একদিকে বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের ৫৮ জন বিধায়ক বিদ্রোহী হয়েছেন, অন্যদিকে লোকসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন সাংসদও দলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। এই পরিস্থিতিতেই দলের রাশ শক্ত করতে আসরে নেমেছেন অভিষেক।

বিদ্রোহের আবহেও ঐক্যের বার্তা তৃণমূলের

এদিকে, দলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় বিদ্রোহীদের এই পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, দল ঐক্যবদ্ধ আছে। সৌগত রায়ের কথায়, "অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারকে একটি চিঠি দিয়েছেন। আমরা বলছি যে তৃণমূল একটাই দল। কেউ যদি তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে যায়, তাকে আর তৃণমূলের অংশ বলে গণ্য করা হবে না। দলের এই বিভাজন সংবিধানসম্মত নয়।"

স্পিকারকে দেওয়া চিঠিতে অভিষেকের কড়া অবস্থান

গত ১০ জুন অভিষেক লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে একটি চিঠি দেন। সেখানে তিনি লেখেন, কিছু সাংসদ নিজেদের 'আলাদা গোষ্ঠী' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন করতে পারেন বলে খবর রয়েছে। চিঠিতে অভিষেক সাফ জানিয়ে দেন, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (AITC) একটি 'একক ও অবিভাজ্য রাজনৈতিক দল'। লোকসভায় দলের যে পরিষদীয় দল রয়েছে, তা মূল দলেরই একটি অংশ মাত্র।

স্পিকার ওম বিড়লার কাছে অভিষেক তিনটি নির্দিষ্ট আর্জি জানিয়েছেন। প্রথমত, তাঁর এই বক্তব্যকে যেন আনুষ্ঠানিকভাবে 'রেকর্ডে রাখা' হয়। দ্বিতীয়ত, তৃণমূলকে একটিমাত্র দল হিসেবেই যেন স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যার প্রতিনিধিত্ব করবেন দলের অনুমোদিত দলনেতা ও হুইপ। এবং তৃতীয়ত, কোনও 'বিদ্রোহী গোষ্ঠী'-কে স্বীকৃতি না দিয়ে, এই ধরনের কোনও আবেদন এলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যেন তৃণমূল কংগ্রেসকে নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়।

চিঠিতে অভিষেক লিখেছেন, "আমার বিনীত অনুরোধ, আপনি যেন: (i) আমার এই বক্তব্য নথিভুক্ত করেন; (ii) তৃণমূলকে একটি অখণ্ড দল হিসেবেই দেখেন, যার একমাত্র প্রতিনিধি হবেন দলের নিযুক্ত দলনেতা ও হুইপ। অন্য কোনও গোষ্ঠীকে যেন স্বীকৃতি না দেওয়া হয়; এবং (iii) এই ধরনের কোনও আবেদন এলে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তৃণমূলকে যেন তার বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দেওয়া হয়। সংবিধানের দশম তফসিল লঙ্ঘিত হলে দল যে কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রাখে, তাও আমরা জানিয়ে রাখছি।"

দলত্যাগ বিরোধী আইনের যুক্তি অভিষেকের

অভিষেকের চিঠিতে দলত্যাগ বিরোধী আইনের সাংবিধানিক ও আইনি দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে। তিনি সুপ্রিম কোর্টের 'সুবোধ দেশাই বনাম মহারাষ্ট্রের রাজ্যপালের প্রধান সচিব ও অন্যান্য' (২০২৩) মামলার রায়ের উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, একানব্বইতম সংবিধান সংশোধনের পর দলত্যাগ বিরোধী আইনে 'বিভাজন' (split) দেখিয়ে পার পাওয়ার আর কোনও সুযোগ নেই।

আইন অনুযায়ী, দলে ভাঙনকে 'অনুমোদনযোগ্য ঘটনা' হিসেবে দেখা হয় না, বরং এর জেরে সাংসদ পদ খারিজও হতে পারে। পরিষদীয় দলের নেতা বা হুইপ নিয়োগের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকে মূল রাজনৈতিক দলের হাতে, পরিষদীয় দলের নয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, "এই সবকিছুর মিলিত ফল হল, বিদ্রোহীরা যে 'আলাদা গোষ্ঠী' হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন করতে চাইছে বলে শোনা যাচ্ছে, তা আইনত ভিত্তিহীন এবং অগ্রাহ্য।" অভিষেক আরও যুক্তি দেন, যদি দল মিশে যাওয়ার (merger) চেষ্টা করাও হয়, তার জন্য দুটি শর্ত পূরণ করতে হবে: প্রথমত, মূল রাজনৈতিক দলটিকে মিশে যেতে হবে এবং দ্বিতীয়ত, পরিষদীয় দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যকে দল বদল করতে হবে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Right To Walk: চিহ্নিত ফুটপাত দিয়ে হাঁটা একটি মৌলিক অধিকার: সুপ্রিম কোর্ট
NEET Controversy: মোদী যুদ্ধ থামাতে পারলে, পেপার ফাঁস আটকাতে পারেন না কেন? তোপ দাগল আরশোলা পার্টি