
Telecom Regulatory Authority of India: ডেটা প্রয়োজন নেই, এমন গ্রাহকদের জন্য এবার শুধু ভয়েস কল ও এসএমএস-নির্ভর ট্যারিফ প্ল্যান চালু করা বাধ্যতামূলক বলে ঘোষণা করল টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া বা ট্রাই। এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এই ধরনের প্ল্যানে কোনও বান্ডেলড ডেটা থাকবে না এবং এর মেয়াদ সর্বোচ্চ ৩০ দিন বা তার কম হতে হবে। ট্রাই জানিয়েছে, বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর ২০২৪ সালের টেলিকম কনজ্যুমার প্রোটেকশন রেগুলেশনসে (Telecom Consumer Protection Regulations) সংশোধন আনা হয়েছে। সেই আলোচনায় দেখা যায়, বর্তমানে ভয়েস ও এসএমএস-কেন্দ্রিক বিশেষ ট্যারিফ ভাউচারের সংখ্যা সীমিত। অনেক ক্ষেত্রে টেলিকম সংস্থাগুলি দীর্ঘমেয়াদি প্ল্যান দিচ্ছে। ফলে কম আয়ের গ্রাহকদের জন্য স্বল্পমূল্যের এবং স্বল্পমেয়াদি রিচার্জের সুযোগ কমে যাচ্ছে।
ট্রাই-এর বক্তব্য, নতুন ট্যারিফ কাঠামো গ্রাহকদের প্রয়োজন মেটাতে যথেষ্ট হবে। বিশেষ করে কম আয়ের গ্রাহকরা নিজেদের প্রয়োজন ও আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী আরও বেশি বিকল্পে রিচার্জ করতে পারবেন। নতুন নিয়মে গ্রাহকদের পছন্দ বাড়লেও টেলিকম সংস্থাগুলির অ্যাভারেজ রেভিন্যু পার ইউজার (Average Revenue Per User) বা ARPU-তে কিছুটা চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যাঁরা খুব কম ডেটা ব্যবহার করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়তে পারে।
ডেলয়েট সাউথ এশিয়ার (Deloitte South Asia) পার্টনার এবং টিএমটি (TMT) ইন্ডাস্ট্রি লিডার রোহন লোবোর (Rohan Lobo) মতে, ভারতে প্রায় ৯০ শতাংশ সংযোগ প্রিপেড। ফলে প্রতিটি রিচার্জের মূল্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক কত ঘন ঘন রিচার্জ করছেন। তাঁর মতে, কিছু গ্রাহক কম দামের ভয়েস-অনলি প্ল্যানে চলে গেলে ARPU-তে চাপ পড়তে পারে। আবার এই ধরনের প্ল্যান কম খরচের গ্রাহক এবং সেকেন্ডারি সিমগুলিকে সক্রিয় রাখতেও সাহায্য করতে পারে। ডেলয়েটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি গ্রাহকের ডেটা ব্যবহার বছরে প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু ডেটা থেকে প্রতি গ্রাহকের মাসিক আয় প্রায় ২০০ টাকাতেই রয়েছে। প্রতি জিবি ডেটা থেকে আয়ও ২০২৫ সালের মার্চের ৯.১১ টাকা থেকে কমে ২০২৬ সালের মার্চে ৭.৫১ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ ডেটা ব্যবহারের বৃদ্ধি একই হারে আয়ে পরিণত হচ্ছে না। PwC India-র টেলিকম প্র্যাকটিস লিড বিনিশ বাওয়ার মতে, ট্রাই-এর এই নির্দেশের ফলে কিছুটা ARPU কমতে পারে। বিশেষ করে কম ডেটা ব্যবহারকারী, প্রবীণ গ্রাহক এবং যাঁরা দ্বিতীয় সিম ব্যবহার করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রভাব বেশি হতে পারে। তাঁর মতে, টেলিকম সংস্থাগুলির প্রিপেড প্ল্যানে ডেটা বান্ডেল করে বেশি মূল্যের রিচার্জে গ্রাহকদের উৎসাহিত করার সুযোগ কিছুটা কমবে। তবে ভারী স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা নিয়মিত ডেটা প্ল্যান কিনতে থাকবেন বলে সামগ্রিক রাজস্বের উপর প্রভাব সীমিত থাকতে পারে।
অন্যদিকে, নতুন প্ল্যানের একটি সুবিধাও রয়েছে। যাঁরা মূল সিমের পাশাপাশি কম ব্যবহারের জন্য দ্বিতীয় সিম রাখেন, তাঁরা সস্তা ভয়েস-অনলি প্ল্যানের মাধ্যমে সেই সংযোগ সক্রিয় রাখতে পারেন। ফলে কিছু ক্ষেত্রে টেলিকম সংস্থাগুলি এমন গ্রাহক ধরে রাখতে পারবে, যাঁরা অন্যথায় রিচার্জ বন্ধ করে দিতে পারতেন। তবে নতুন নির্দেশের আরও একটি দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাওয়া। তাঁর মতে, বিষয়টি শুধু ARPU-র মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, টেলিকম সংস্থাগুলির ট্যারিফ কীভাবে তৈরি হবে, সেই ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা আরও বাড়ছে। বর্তমানে ট্যারিফ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংস্থাগুলির তুলনামূলক স্বাধীনতা বা ‘Forbearance’ নীতি রয়েছে। নতুন নির্দেশ সেই ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপ বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।