সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বলার জন্য় বিজেপি সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তকে ঘটা করে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্য়ালয়। অথচ, অর্থনীতি ও ফ্য়াসিবাদ নিয়ে বলার জন্য় অর্থনীতিবিদ প্রভাত পট্টনায়কের সেমিনার পিছিয়ে দিল সেই একই বিশ্ববিদ্য়ালয়। কারণ, এই বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ যে মোদী বিরোধী তা বিলক্ষণ জানে বিশ্বভারতী।
সূত্রের খবর, দিল্লির এই অধ্য়াপক প্রভাত পট্টনায়ক যে কট্টর মোদী বিরোধী এবং অর্থনীতির সঙ্গে ফ্য়াসিবাদের সম্পর্ক ব্য়াখ্য়া করতে গিয়ে যে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেই বলবেন তিনি, তা বুঝতে পেরেছিল বিশ্ববিদ্য়ালয় কর্তৃপক্ষ। তাই নির্দিষ্ট কোনও কারণ না-জানালেও এই কারণেই যে অধ্য়াপক পট্টনায়কের সভা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য় বলে মনে করছেন পড়ুয়াদের একাংশ।
আগামী ১২ মার্চ অশোক রুদ্র স্মারক বক্তৃতায় বলার কথা ছিল প্রভাত পট্টনায়কের। কিন্তু বিশ্বভারতী থেকে তাঁকে ফোন করে জানানো হয়, ওইদিন ওই ওই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে না। অধ্য়াপক পট্টানায়ক এই মুহূর্তে অবশ্য় ভারতে নেই। ফিরে এসে তাঁর বিশ্বভারতীতে বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল।
সূত্রের খবর, এই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্য়ালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষকরা। সেইসঙ্গে ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারাও। সব যখন ঠিকঠাক হয়ে গিয়েছে, তখন কার্যত কোনও কারণ ছাড়াই এই বক্তৃতা পিছিয়ে দেওয়া হল কেন তা বোধগম্য় হচ্ছে না কাউরই। তবে অনেকেই মনে করছেন, অধ্য়াপক পট্টনায়ক যেহেতু কট্টর মোদী বিরোধী, তিনি স্বভাবতই তাঁর বক্তৃতায় এমন কিছু বলবেন, যা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে যাবে না। তাই কোনও কারণ না-দেখিয়েই এই বক্তৃতা পিছিয়ে দিল বিশ্ববিদ্য়ালয় কর্তৃপক্ষ। কেউ কেউ আবার বলছেন, বিশ্ববিদ্য়ালয়ে বিজেপি সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তকে সিএএ নিয়ে বলার জন্য় আমন্ত্রণ জানাতে পারেন। অথচ, প্রভাত পট্টনায়ক বক্তব্য় রাখলেই তাদের সমস্য়া।