ইতিহাস তৈরি করতে চলেছেন আইনজীবী থানিয়া নাথান সি। আর মাত্র কয়েক দিন পরেই তিনি কেরলের ইতিহাসে প্রথম দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মহিলা বিচারক হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে চলেছেন। 

ইতিহাস তৈরি করতে চলেছেন আইনজীবী থানিয়া নাথান সি। আর মাত্র কয়েক দিন পরেই তিনি কেরলের ইতিহাসে প্রথম দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মহিলা বিচারক হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে চলেছেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কেরলে একের পর এক ইতিহাস

কেরলের জুডিশিয়াল সার্ভইসে সিভিল জজ (জুনিয়র ডিভিশন) নির্বাচনের জন্য অনুষ্ঠিত বিচার বিভাগূয় পরিষেবা পরীক্ষায় সম্পূর্ণ অন্ধ মিসেস নাথান বেঞ্চমার্ক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে। সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত জয়সন সাজন দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। ২০২৫ সালে বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং আর. মহাদেবনের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চের একটি যুগান্তকারী রায় ছিল, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল যে "দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী প্রার্থীদের বিচারিক পরিষেবার জন্য 'অযোগ্য' বলা যাবে না এবং তারা বিচারিক পরিষেবার পদের জন্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের যোগ্য," যা মিসেস নাথানের বিচারক হওয়ার পথ প্রশস্ত করে। বেঞ্চ রায় দিয়েছিল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিচার পরিষেবার সুযোগ অর্জনের ক্ষেত্রে কোনও বৈষম্যের সম্মুখীন হওয়া ঠিক নয়। পরিবর্তে একটি অন্তবর্তীমূলক পরিকাঠামো প্রদানের জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ। কোনও প্রার্থীকে তাদের অক্ষমতার কারণে বিবেচনা থেকে বঞ্চিত করা ঠিক নয়।

বিচার বিভাগীয় সূত্রের খবর, কেরলে সম্ভবন এটাই প্রথম বারের দৃষ্টিহিন প্রার্থীর বিচার বিভাগীয় পরিষেবা পরীক্ষায় প্রথম উত্তীর্ণ হওয়ার ঘটনা। তবে এই ধরনের প্রার্থীরা এর আগে আবেদন করেছিলেন কিনা তা জানা যায় না। বর্তমানে কেরলে কোনও সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন বিচারক নেই। কেরল হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। প্রার্থীদের তালিকা ইতিমধ্যেই সরকারের কাছে পাঠান হয়েছে। খুব দ্রুত নিয়োগপত্র জারি করা হবে।

নাথান সম্পর্কে জানুন

২৪ বছরের নাথান কান্নুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। তিনি কান্নুরেক তালিপারাম্বায় কেজি সুনীলকুমারের জুনিয়র হিসেবে কাজ শুরু করেন। তিনি দ্যা হিন্দুকে জানিয়েছেন, 'আমার সিনিয়র এবং আরও কয়েকজন আমাকে নিয়োগ পরীক্ষা দিতে উৎসাহিত করেছিলেন এবং সুপ্রিম কোর্টের রায় সঠিক সমর্থন হিসেবে এসেছিল। আমি ব্রেইল পদ্ধতিতে টেক্সট ব্যবহার করে আইন অধ্যয়ন করেছি। এখন, প্রযুক্তি আমার মতো মানুষের সাহায্যে এসেছে, যেখানে স্ক্রিন-রিডিং সফ্টওয়্যার আমাদের টেক্সট পড়তে সাহায্য করে'।

নাথান আরও জানিয়েছেন, তিনি আইনজীবী হিসেবে ব্রেইল লিপিতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পড়েন। সফ্টওয়্য়ার দিয়ে যেসব নথি পড়া যায় না সেগুলির ক্ষেত্রে তার সমস্যা হতে পারে। তিনি জানিয়েছেন মূলত পুরনো নথির জন্যই তাঁর সমস্যা হতে পারে। তবে তিনি সবরকম চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন।