
ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদনপত্র ফর্ম ৬-এর অনলাইন সংস্করণে যুক্ত হয়েছে সম্পূর্ণ নতুন একটি বিভাগ। সেখানেই আবেদনকারীর বাবা-মায়ের SIR-সংক্রান্ত তথ্য চাওয়ার একটি নতুন বিভাগ দেখা গিয়েছে বলে দাবি করেছে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম। এর পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, বাবা ও মায়ের ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে সন্তানের নাম তোলা কি জটিল হতে পারে?
নতুন এই বিভাগে আবেদনকারীর কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে তাঁর বাবা-মায়ের এসআইআর সংক্রান্ত অবস্থান। অর্থাৎ, ভোটার তালিকায় নাম তুলতে গেলে এখন বাবা-মায়ের তথ্যও জমা দিতে হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে। যা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে নতুন করে।
নির্বাচন কমিশনের ইসিআইনেট পোর্টালে ‘জে’ ও ‘কে’ বিভাগের মাঝে ঢুকে পড়েছে ‘ঘোষণাপত্র’ নামের একটি অংশ, যা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।
এই অংশে তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক বলে স্পষ্ট করে লেখা নেই ঠিকই, কিন্তু পূরণ না করলে ফর্মের পরের ধাপে যাওয়াই যাচ্ছে না। ফলে বাস্তবে এটি প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলেই মত অনেকের।
সমস্যা অন্য জায়গায়। কারণ একই পোর্টালের একই ফর্ম অফলাইনে ব্যবহারের জন্য ডাউনলোড করা হলে কিন্তু সংযুক্ত অংশটি আর দেখা যাচ্ছে না। যা নিয়ে আবেদনকারীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নতুন বিভাগে আবেদনকারীকে বেছে নিতে হচ্ছে তিনটি বিকল্পের একটি—
প্রথম দু’টি বিকল্প বেছে নিলে জানাতে হচ্ছে বিধানসভা কেন্দ্র, বুথ নম্বর ও সিরিয়াল নম্বরের মতো তথ্য। কিন্তু কেউ যদি তা খুঁজে না পান এবং তৃতীয় বিকল্প বেছে নেন, তাহলে আবেদন গ্রাহ্য হবে কি না— তার কোনও ব্যাখ্যা কমিশনের পোর্টালে নেই।
প্রথম দু’টি বিকল্প বাছলে আবেদনকারীকে বাবা-মায়ের বিধানসভা কেন্দ্রের নাম, বুথ নম্বর এবং এসআইআরের সিরিয়াল নম্বর জানাতে হচ্ছে। যদি কেউ তা না-খুঁজে পান, তবে তাঁকে তৃতীয় বিকল্পটিকেই বেছে নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে আবেদনটি গ্রাহ্য হবে কি না, কমিশনের পোর্টালে তার কোনও উল্লেখ নেই।
তবে অফলাইনে ব্যবহারের জন্য একই ফর্ম ৬ ডাউনলোড করলে ওই নতুন সংযুক্ত অংশটি আর দেখা যাচ্ছে না। অনলাইন ও অফলাইন সংস্করণের এই ফারাক নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
যে সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, সেখানকার অনলাইন ফর্মেই এই নতুন বিভাগ দেখা যাচ্ছে। ব্যতিক্রম শুধু অসম ও বিহার— অসমে এসআইআর হয়নি, আর বিহারে তা আগেই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে।
জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী ফর্মে কোনও পরিবর্তন আনার ক্ষমতা রয়েছে শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের। কমিশনের প্রাক্তন কর্তাদের একাংশের দাবি, কমিশন নিজে থেকে ফর্মে বদল আনতে পারে না— যা নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি অস্পষ্টতা।
দেশের ১০ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে ৫.৫৮ কোটিরও বেশি ভোটারের নাম। এর মধ্যে রয়েছেন মৃত, নিখোঁজ ও স্থানান্তরিত ভোটারেরাও।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বহু নাম এখনও বিবেচনাধীন। ফলে ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে ভোট দিতে পারেননি প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ, যাঁদের আবেদন এখনও ট্রাইবুনালে ঝুলে আছে। নতুন বিভাগ যুক্ত হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, এই বাদ পড়া বা বিবেচনাধীন ভোটারদের সন্তানেরা আদৌ ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ পাবেন কি না।
উল্লেখ্য, বাবা-মায়ের SIR-সংক্রান্ত তথ্য না থাকলে সন্তানের নাম ভোটার তালিকায় তোলা যাবে না—এমন কোনও নির্দেশ এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করেনি। অনলাইন ফর্মে যুক্ত নতুন বিভাগকে ঘিরেই এই প্রশ্ন ও জল্পনার সূত্রপাত হয়েছে।