
ক্রমশ উষ্ণ হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের জল। বদলাচ্ছে বায়ুপ্রবাহের গতিপথও। আর এই পরিবর্তনের জেরেই আবহাওয়াবিদদের নজরে এখন El Niño। মার্কিন আবহাওয়া সংস্থা NOAA-এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে এই জলবায়ুগত পরিস্থিতি অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এল নিনো ঐতিহাসিক মাত্রায় পৌঁছনোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
কী এই El Niño?
El Niño কোনও ঘূর্ণিঝড় বা ঝড়ের নাম নয়। এটি প্রশান্ত মহাসাগরকেন্দ্রিক একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া। নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সমুদ্রের এই উষ্ণতার প্রভাব শুধু প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকে না। এর জেরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন হতে পারে। কোথাও অতিবৃষ্টি, কোথাও খরা, আবার কোথাও তাপপ্রবাহের প্রবণতা বাড়তে পারে।
কেন এবার এতটা উদ্বেগ?
NOAA-এর পর্যবেক্ষণে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের একাধিক জায়গায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শুধু উপরিভাগেই নয়, সমুদ্রের গভীরেও উষ্ণ জল জমা হচ্ছে। ফলে আগামী মাসগুলিতে এই অতিরিক্ত উষ্ণতা El Niño-কে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ক্রমশ উষ্ণ হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের জল। বদলাচ্ছে বায়ুপ্রবাহের গতিপথও। আর এই পরিবর্তনের জেরেই আবহাওয়াবিদদের নজরে এখন El Niño। মার্কিন আবহাওয়া সংস্থা NOAA-এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে এই জলবায়ুগত পরিস্থিতি অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এল নিনো ঐতিহাসিক মাত্রায় পৌঁছনোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
কী এই El Niño?
El Niño কোনও ঘূর্ণিঝড় বা ঝড়ের নাম নয়। এটি প্রশান্ত মহাসাগরকেন্দ্রিক একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া। নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সমুদ্রের এই উষ্ণতার প্রভাব শুধু প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকে না। এর জেরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন হতে পারে। কোথাও অতিবৃষ্টি, কোথাও খরা, আবার কোথাও তাপপ্রবাহের প্রবণতা বাড়তে পারে।
কেন এবার এতটা উদ্বেগ?
NOAA-এর পর্যবেক্ষণে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের একাধিক জায়গায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শুধু উপরিভাগেই নয়, সমুদ্রের গভীরেও উষ্ণ জল জমা হচ্ছে। ফলে আগামী মাসগুলিতে এই অতিরিক্ত উষ্ণতা El Niño-কে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
NOAA-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে অত্যন্ত শক্তিশালী El Niño হওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশেরও বেশি। একই সময়ে এটি ১৯৫০ সালের পর নথিভুক্ত শক্তিশালী El Niño-গুলির মাত্রা ছাপিয়ে যেতে পারে—এমন সম্ভাবনাও রয়েছে।
ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
El Niño নিয়ে ভারতের বিশেষ উদ্বেগের কারণ বর্ষা। প্রশান্ত মহাসাগরের এই জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে ভারতীয় মৌসুমি বায়ুর সম্পর্ক রয়েছে। শক্তিশালী El Niño হলে ভারতের বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর প্রভাব পড়তে পারে কৃষি, জলসম্পদ এবং তাপমাত্রার উপরও।
তবে শক্তিশালী El Niño মানেই ভারতে নিশ্চিত খরা হবে—এমনটা বলা ঠিক নয়। ভারতের মতো বিশাল দেশে আঞ্চলিক আবহাওয়া অনেকগুলি কারণের উপর নির্ভর করে। ফলে কোনও নির্দিষ্ট রাজ্য বা শহরে ঠিক কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
বাংলার আবহাওয়াতেও কি প্রভাব পড়তে পারে?
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ছবিটা আরও জটিল। El Niño-র বছর মানেই বাংলায় বৃষ্টি একেবারে কমে যাবে, এমন কোনও সরল নিয়ম নেই। বরং বৃষ্টির সময় ও ধরনে পরিবর্তন হতে পারে। দীর্ঘ শুষ্ক সময়ের পর হঠাৎ ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত বা চরম আবহাওয়ার ঘটনাও দেখা দিতে পারে।
অর্থাৎ, El Niño শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়লেও তার প্রভাব বাংলায় ঠিক কেমন হবে, তা নির্ভর করবে অন্যান্য আবহাওয়াগত পরিস্থিতির উপরও।
২০২৬-এর শেষভাগে কী হতে পারে?
বর্তমান পূর্বাভাস বলছে, বছরের শেষ দিকে El Niño আরও শক্তিশালী হতে পারে। অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে পরিস্থিতি ঐতিহাসিক মাত্রায় পৌঁছলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা এবং খরার পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
ভারতের ক্ষেত্রে তাই আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রের তাপমাত্রা, বায়ুপ্রবাহ এবং বৃষ্টিপাতের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা।
তবে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। El Niño-র প্রভাব নিয়ে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে আগামী কয়েকটি পূর্বাভাস ও পর্যবেক্ষণের পর। কিন্তু প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা যেভাবে বাড়ছে, তাতে ২০২৬-এর শেষভাগে বিশ্ব আবহাওয়ার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।