পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফল বেরোচ্ছে। এই সময় অনেকের মনেই একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খায়। ভোটে জেতার সঙ্গে সঙ্গেই কি বিধায়কদের মাইনে আর অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা চালু হয়ে যায়? নাকি এর জন্য কোনও বিশেষ নিয়ম আছে? চলুন, জেনে নেওয়া যাক।
ভোটে জিতলেই কি প্রথম দিন থেকে মাইনে চালু হয় বিধায়কদের?
না, ভোটে জেতার দিন থেকেই বিধায়কদের মাইনে চালু হয় না। ওই দিন তাঁরা শুধু নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি পান, কিন্তু তখনও সরকারিভাবে বিধায়ক হন না। তাই এই পর্যায়ে তাঁরা কোনও বেতন, ভাতা বা সরকারি সুবিধা পান না।
25
বিধায়কদের মাইনে পেতে গেলে কী করতে হয়?
বিধায়কদের মাইনে পেতে গেলে বিধানসভায় শপথ নিতে হয়। ভোটের ফল ঘোষণার পর প্রো-টেম স্পিকার বা কোনও নির্দিষ্ট আধিকারিকের সামনে তাঁরা শপথগ্রহণ করেন। সেই মুহূর্ত থেকেই তাঁরা সরকারিভাবে বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং তাঁদের বেতন ও ভাতা চালু হয়।
35
শপথ নেওয়ার আগে জয়ী প্রার্থী সরকারিভাবে বিধায়ক নন
শপথ নেওয়ার আগে পর্যন্ত জয়ী প্রার্থী সরকারিভাবে বিধায়ক নন। এই সময়ে তাঁকে কোনও বেতন দেওয়া হয় না। এমনকি, সরকারি গাড়ি বা বাড়ির মতো সুবিধাও তিনি পান না। বিধানসভার অধিবেশনেও যোগ দেওয়ার অধিকার তাঁর থাকে না। এই সময়টাকে সাধারণত 'ট্রানজিশন পিরিয়ড' বা অন্তর্বর্তীকালীন সময় বলা হয়।
ভারতে সব রাজ্যে বিধায়কদের মাইনে একরকম হয় না। সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিধানসভা বেতন ও ভাতার পরিমাণ ঠিক করে। তাই কিছু রাজ্যে মাইনে বেশি, আবার কিছু রাজ্যে কম। যেমন, তেলেঙ্গানায় বিধায়করা ভাতা মিলিয়ে মাসে প্রায় ২.৩ লক্ষ টাকা পান, আবার ত্রিপুরায় সেই অঙ্কটা প্রায় ৩৪,০০০ টাকা। রাজ্যের আর্থিক অবস্থা ও নীতির উপর এই টাকার পরিমাণ নির্ভর করে।
55
বেতনের সঙ্গে আরও অনেক সুবিধা
শপথ নেওয়ার পর বিধায়করা বেতনের সঙ্গে আরও অনেক সুবিধা পান। কেন্দ্রের মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য খরচ, অফিস চালানোর জন্য ফান্ড এবং কর্মী নিয়োগের জন্য সাহায্য পান। সরকারি কাজে যাতায়াতের জন্য ভ্রমণ ভাতা, রাজ্যের রাজধানীতে থাকার ব্যবস্থা এবং গাড়ি বা গাড়ির জন্য ভাতাও দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি চিকিৎসা এবং কিছু রাজ্যে বাস ও ট্রেনে যাতায়াতের সুবিধাও থাকে।