
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'এয়ার ইন্ডিয়া ওয়ান' বিমানটি যখন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আকাশসীমায় প্রবেশ করল, তখন তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিল এক বিশেষ সম্মাননা। দিল্লি ও আবুধাবির মধ্যেকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলোকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিমানটিকে এসকর্ট বা প্রহরা দিতে দেখা যায়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিমানবাহিনী দ্বারা পরিচালিত এই একই এফ-১৬ ব্লক ৬০ 'ডেজার্ট ফ্যালকন' যুদ্ধবিমানগুলোকে সম্প্রতি সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাত চলাকালীন ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন ও প্রজেক্টাইলগুলোকে ধ্বংস করেছিল এই বিমানগুলোই।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জড়িয়ে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদীর পাঁচ দেশ সফরের প্রথম গন্তব্য। প্রধানমন্ত্রী মোদীর 'এয়ার ইন্ডিয়া ওয়ান' যখন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আকাশসীমায় প্রবেশ করে, তখন দুটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে তাঁর বিমানটির সঙ্গী হতে দেখা যায়। আবুধাবিতে অবতরণ পর্যন্ত বিমানগুলো সঙ্গেই ছিল। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা জানানো হয় এবং এরপর তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশটির উপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এই সংঘাত চলাকালীন দেশটির প্রশাসন যেভাবে সেখানে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের দেখভাল করেছে, প্রধানমন্ত্রী তার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আবুধাবির প্রতি নয়াদিল্লির পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এই হামলাগুলোকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন: “যেভাবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে টার্গেট করা হয়েছে, তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই কঠিন পরিস্থিতিতে আপনারা অসাধারণ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। এই দুঃসময়ে আপনারা সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে বসবাসরত ভারতীয়দের এমনভাবে দেখভাল করেছেন, যেন তারা আপনাদেরই পরিবারের সদস্য। আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, "আমাদের অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে ভারত এবং ভবিষ্যতেও একইভাবে পাশে থাকবে।"
মোদীর পাঁচ দেশ সফর
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্ব যখন তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখোমুখি, ঠিক সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই পাঁচ-দেশ সফরের মূল লক্ষ্য হল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করা। বিশ্বের শীর্ষ তেল রফতানিকারক দেশগুলোর প্রধান জোট—অর্গানাইজেশন অফ দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (OPEC)—থেকে আবুধাবির বেরিয়ে আসার ঘটনার পরপরই এই সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে (UAE) তাঁর সংক্ষিপ্ত সফর শেষ করার পর প্রধানমন্ত্রী ১৫ থেকে ১৭ মে নেদারল্যান্ডস; ১৭ থেকে ১৮ মে সুইডেন; ১৮ থেকে ১৯ মে নরওয়ে সফর করবেন এবং ১৯ থেকে ২০ মে ইতালিতে সফরের মধ্য দিয়ে তাঁর এই সফরসূচি সমাপ্ত করবেন।