Women Reservation Bill: লোকসভায় পেশ করা হয়েছে মহিলা সংরক্ষণ বিল। বিলটি পেস করেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন মেঘাওয়াল। পাশাপাশি তিনি ডিলিমিটেশন অর্থাৎ সীমানা নির্ধারণ বিলও পেশ করেন। এই বিলগুলি সম্পর্কে রইল বিস্তারিত তথ্য। বিরোধীদের আপত্তির কারণ।
লোকসভায় পেশ করা হয়েছে মহিলা সংরক্ষণ বিল। বিলটি পেস করেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন মেঘাওয়াল। পাশাপাশি তিনি ডিলিমিটেশন অর্থাৎ সীমানা নির্ধারণ বিলও পেশ করেন।
212
বিরোধিতায় কংগ্রেস
কংগ্রেস সাংসদ কেসি বেনুগোপাল বিলগুলির তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই সংবিধান পরিকাঠামো পরিবর্তন করতে চাইছে সরকার।
312
কী আছে মহিলা সংরক্ষণ বিলে?
কেন্দ্রের পেশ করা বিলটির আনুষ্ঠানিক নাম হল নারী শক্তি বন্ধন অধিনয়ম। এই সংশোধনী বিলের মাধ্যমে লোকসভা ও রাজ্যসভায় নারীদের জন্য ৩৩% আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
যদিও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সেই সময় সরকার ও বিরোধীরা এই বিলকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিল। বিরোধীদের দাবি ছিল ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগেই এই বিলটি লাগু করতে। কিন্তু সেই সময় মোদী সরকার তা করেনি। এবার আবারও বিল নিয়ে এসেছে কেন্দ্রীয়।
512
প্রস্তাবিত পরিবর্তন
মহিলা সংরক্ষণ বিলে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলি হল- ভারতের সংসদের আকার ও প্রতিনিধিত্ব - দুই দিক থেকেই এর রূপরেখা মৌলিকভাবে বদলে দেওয়া। কারণ মহিলা বিলের মাধ্যমেই লোকসভা আর বিধানসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা লক্ষ্য কেন্দ্রের।
612
আসন সংখ্যা বৃদ্ধি
বর্তমানে লোকসভায় রয়েছে ৫৪৩টি আসন। বিলগুলি পাশ হলে তা বেড়ে হবে ৮৫০। বর্ধিত আসনের প্রায় এক তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ২৮৩টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। যা জাতীয় পর্যায়ে প্রথমবারের মত সংরক্ষণ কার্যকর করার জন্য লাগু হতে পারে।
712
কেন্দ্রের বক্তব্য
২০২৩ সালে নতুন সংসদভবনে আগেই মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ হয়েছিল। তবে সেই সময় বলা হয়েছিল ২০২৭ সালে আদমশুমারির ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই এই সংরক্ষণ কার্যকর হবে। অর্থাৎ মূল আইন অনুযায়ী ২০৩৪ সালের আগে এই সংরক্ষণটি বলবৎযোগ্য হবে না। আর সেই জন্যই কেন্দ্রীয় সরকার একটি সীমানা নির্ধারণ বিলও পেশ করেছে।
812
সীমানা নির্ধারণ বিল কী?
আসন পুননির্ধারণ প্রক্রিয়ার দিকেও নজর দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকার প্রতিটি রাজ্যের জন্য বরাদ্দকৃত আসনের অনুমানে তোনও পরিবর্তন না এনেই ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন থেকে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩% সংরক্ষণ করতে আগ্রহী।
912
এতদিনের নিয়ম
কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করেই লোকসভা আর রাজ্য বিধানসভাগুলির জন্য নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। সংবিধানের ৮২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতি আদমশুমারির পর এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
1012
বর্তমান সংখ্যা
১৯৭৬ সালে ৪২তম সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে ২০০১ সালের লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ - করা হয়েছিল। তবে মোদী সরকার করোনা মহামারির জন্য নির্ধারিত সময়ে জনগণনা করতে পারেনি।
1112
সরকারের প্রস্তাব
সংবিধান সংসদকে সীমানা নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। সরকার একটি সীমানা নির্ধারণের জন্য কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েও একটি বিল আসনে। প্রস্তাব করা হয়েছে সেই কমিশনের প্রধান হবে সুপ্রিম কোর্টের একজন প্রাক্তন বিচারপতি ও একজন সদস্য হিসেবে থাকবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি।
1212
বিরোধীদের আপত্তি
বিরোধীদের বক্তব্য তারা মহিলা সংরক্ষণ বিলকে সমর্থন করবে। কিন্তু ২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে সীমান পুনর্নিধারণ বা ডিলিমিটেশন বিলকে কখনই সমর্থন করবে না। এই বিলটির জন্যই তারা গোটা প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে।