
খালেদা জিয়ার বড়ছেলে তারেক রহমান। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক জিয়া। হাসিনা সরকারের পতনের পর এবার তিনি দেশে ফিরছেন। বুধবার তিনি বিএনপির সমাবেশে ভিডিও কনফারেন্সিং-এর ভাষণ দেবেন।
১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্ম। খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের প্রথম সন্তান। বর্তমানে বিএনপি-র সর্বময় কর্তা। যদিও হাসিনা সরকারের দেওয়া শাস্তিতে তিনি বর্তমানে দেশছা়ড়া। তবে তাঁর প্রত্যাবর্তনের রাস্তা তৈরি হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যেই তিনি ফিরতে পারেন বাংলাদেশে।
হাসিনা সরকারের দেওয়া শাস্তির খাঁড়া যাতে মাথার ওপর না পড়ে তারজন্যই দেশ ছাড়েন তারেক রহমান। বর্তমানে তিনি রয়েছে ব্রিটেনে। সূত্রের খবর ব্রিটেন থেকেই হাসিনা সরকারের পতনের ব্লু প্রিন্ট তৈরি করেছিলেন পাকিস্তানে আর চিনের সঙ্গে বলে।
গোয়ান্দা রিপোর্ট অনুযায়ী লন্ডনে তারেক একাধিক বৈঠক করেছিলেন পাকিস্তানের আইএসআইর সঙ্গে। এছড়াও আরবের একাধিক দেশে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে কথা বলেই হাসিনা সরকারের পতনের রাস্তা তৈরি করেছিলেন।
বিলেতে বসেই বাংলাদেশের আন্দোলনের যাবতীয় কার্যক্রম তৈরি করেছিলেন তারেক জিয়া। ভারত বিরেোধী হিসেবেই তিনি পরিচিত। বিএনপির এক নেতার কথায় বাংলাদেশে 'ইন্ডিয়া আউট' আন্দোলনের হোতা তারেক। ভারতীয় পণ্য বয়কটের লক্ষ্যেই হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছিলেন।
তারেক রহমান বিএনপির প্রভাবশালী নেতা। বর্তমানে তিনি সিনিয়র যুগ্মমহাসচিবের পদে রয়েছে। ২০০০ সালে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকার সময়ই তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি। তারপর ধীরে ধীরে দলের সর্বময় কর্তা হয়ে ওঠেন। ১৯৮৮ সালে বিএনপির সদস্যপদ গ্রহণ করেন।
সাফল্যে তারেকের কৃতিত্ব ছিল অনেকটাই। খালেদা সরকারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করেছিলেন। তারপরই দল তাঁরে সিনিয়র নেতার মর্যাদা দেয়। যদিও তিনি কখনই রাজনৈতিক প্রার্থী হননি। কিন্তু নির্বাচনে মা খালেদা জিয়ার প্রচার সঙ্গী ছিলেন। দলের রণকৌশল নির্ধারণ করতেন। দক্ষ সংগঠক বলা যেতেই পারে তারেক জিয়াকে।
খালেদা জিয়ে শেখ হাসিনার বরাবরের রাজনৈতিক শত্রু। তাঁর ছেলে হাসিনার গলার কাঁটা। হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরেই তিনি সক্রিয়। ১৯৯১ সাল থেকেই হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন দলকে।
২০০৪ সালে শেখ হাসিনাকে হত্য়ার ষড়যন্ত্র, আওয়ামি লিগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা-সহ একাধিক অভিযোগে তারেক রহমানকে দায়ী করা হয়। এই হামলায় প্রাণে বাঁচলেও শ্রবণ শক্তির ক্ষতি হয়েছিল তাঁর। মৃত্যু হয়েছিল কয়েকশ আওয়ামি লিগ সমর্থকের। বিচারপ্রক্রিয়ায় অনুপস্থিত থাকায় তাঁকে পালাকত ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকার।
সেই থেকেই তারেক লন্ডনে বাস করেন। তবে যোগাযোগ রেখেছিলেন দেশের সঙ্গে। যদিও বিএনপির দাবি মিথ্যা মানলায় ফাঁসানো হয়েছে তাদের নেতাকে।
ঢাকা বিএএফ শাহীন কলেজে পড়াশুনাকরেন। ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে এসএসসি করেন। আদমজি ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও আন্তর্জাতিক বিভাগের ছাত্র ছিলেন।
বাঙালু মুসলিম পরিবার তারেকের। বাবা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি, মা দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। স্ত্রী জোবাইদা রহমান পেশায় চিকিৎসক। জন্ম সিলেটে। বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রিটেনের নাগরিক। জাইমা রেহমান নামে তাদের এক সন্তানও রয়েছে।