India Diesel Export to Bangladesh:মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারই প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী বাংলাদেশেও। বাংলাদেশে ডিজেল আমদানির উৎস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনল BPC।

India Diesel Export to Bangladesh: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারই প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী বাংলাদেশেও। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ডিজেল আমদানির উৎস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (BPC)। পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছরে ডিজেল আমদানির ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তন এসেছে পদ্মাপাড়ের দেশে। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমেছে। বিপিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ মোট প্রায় ২৩ লাখ টন ডিজেল আমদানি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৪১ শতাংশ এসেছে সিঙ্গাপুর থেকে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মালয়েশিয়া, সেখান থেকে এসেছে প্রায় ২৪ শতাংশ ডিজেল। পাশাপাশি ভারতের দিক থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে জ্বালানি যাচ্ছে বাংলাদেশে।

ভারত থেকে কত ডিজেল এসেছে

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৩ লাখ ৩৩ হাজার টন ডিজেল এসেছে। যদিও গত অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল আরও বেশি, প্রায় ৪ লাখ ৪৮ হাজার টন। গত কয়েক বছরের তথ্য ঘাঁটলে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরেই ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি ডিজেল আমদানি করেছিল বাংলাদেশ। সেই বছরে প্রায় ৫ লাখ ৫১ হাজার টন ডিজেল গিয়েছিল, যা মোট আমদানির প্রায় ১৫ শতাংশ।

আগে ছবিটা কী ছিল

তবে একসময় পরিস্থিতি ছিল একেবারেই আলাদা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে বাংলাদেশে আমদানি হওয়া ডিজেলের প্রায় ৯১ শতাংশই এসেছিল কুয়েত থেকে। তখন ভারতের অংশ ছিল মাত্র ৯ শতাংশ। কিন্তু গত দুই দশকে আমদানির উৎসে বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চিন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও সৌদি আরবসহ একাধিক দেশ বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করছে। কোনও একটি দেশ বা অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কমাতেই বিকল্প উৎস খুঁজছে ঢাকা। সেই কারণেই ব্রুনেই থেকেও প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে তারা।

বাংলাদেশ ডিজেল নির্ভর দেশ

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই চাহিদা ছিল প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। এর বড় অংশই আসে সরাসরি আমদানির মাধ্যমে, আর বছরে প্রায় সাত থেকে সাড়ে সাত লাখ টন জোগান মেলে অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে।