এইডস-এর টিকা তৈরি করতে গিয়েই কি করোনার উদ্ভব, নোবেলজয়ীর দাবিতে তোলপাড় গোটা বিশ্ব

Published : Apr 20, 2020, 01:37 PM ISTUpdated : Apr 20, 2020, 01:46 PM IST
এইডস-এর টিকা তৈরি করতে গিয়েই কি করোনার উদ্ভব, নোবেলজয়ীর দাবিতে তোলপাড় গোটা বিশ্ব

সংক্ষিপ্ত

ফের কাঠগড়ায় উহান ইন্সস্টিটিউট অব ভাইরোলজি নতুন করোনাভাইরাস-এর উদ্ভব তাদের গবেষণাগারেই এমনটাই দাবি ফরাসী নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর তাঁর মতে এইডস-এর টিকা তৈরির চেষ্টার ফল  

সার্স-কোভ-২ ভাইরাস অর্থাৎ কোভিড-১৯ রোগের জন্য যে নতুন করোনাভাইরাসটি দায়ী তার উৎপত্তি গবেষণাগারেই। সম্ভবত উহান-এ অবস্থিত চিনের ন্য়াশনাল ইন্সস্টিটিউট অব ভাইরোলজির গবেষণাগারেই। এবার এই দাবি কোনও রাজনৈতিক নেতা নয়, করলেন স্বয়ং এক নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী। ভাইরাস বিষয়ে যাঁর মতামতের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে, সেই ফরাসী বিজ্ঞানী লুক মন্টানিয়ার। তবে তাঁর মতে ইচ্ছাকৃতভাবে মহামারি সৃষ্টির জন্য ভাইরাসটি তৈরি করা হয়নি। এইডস রোগের ভাইরাসের বিরুদ্ধে একটি টিকা তৈরি করতে গিয়েই এই নতুন করোনাভাইরাসটি মানবদেহে সংক্রামিত হয়েছিল বলেই দাবি অধ্যাপক মন্টানিয়ার।

২০০৮ সালে বিজ্ঞানী ফাঁসোয়া বারি সিনুসি-র সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন লুক মন্টানিয়ার। এইডস রোগের ভাইরাস, এইচআইভি বা হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস আবিষ্কার করেছিলেন তাঁরা।রবিবার এক ফরাসী সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে সেই নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী দাবি করেছেন,  করোনভাইরাস-এর জিনোমে 'এইচআইভি-র উপাদান'-এর উপস্থিতি রয়েছে। শুধু তাই নয়, 'ম্যালেরিয়ার জীবাণু' জাতীয় উপাদানও রয়েছে বলে তাঁর সন্দেহ। তাঁর মতে সম্ভবত উহান শহরের পরীক্ষাগারে এইডস-এর টিকা তৈরির জন্য করোনাভাইরাস নিয়ে পরীক্ষা চলছিল। কারণ, তাঁর মতে এই সহস্রাব্দের একেবারে গোড়া থেকেই করোনভাইরাসগুলি সম্পর্কে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছে চিন।

বস্তুত, করোনাভাইরাস বিশ্বব্যপী মহামারির রূপ নেওয়ার আগে থেকেই উহানের পরীক্ষাগারেই কোভিড-১৯'এর ভাইরাস-এর উৎস, এমন একটা তত্ত্ব বাজারে রটছে। তারপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ল' ফার্ম করোনাভাইরাসকে চিনের তৈরি বায়োওয়েপন বা জৈবঅস্ত্র বলে, চিনের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেছিল। সম্প্রতি এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ভাইরাসটি বাদুড়ের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে উদ্ভূত এবং এটি জৈবঅস্ত্রও নয় বটে, তবে বাদুড়ের দেহের এই করোনাভাইরাস নিয়ে উহানের পরীক্ষাগারে গবেষণা চলছিল।

কোভিড-১৯ হটস্পটে হানা রহস্যময় গাড়ির, ছড়িয়ে দেওয়া হল হাজার হাজার টাকা

করোনা-কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে যৌন কেলেঙ্কারি, রোগীরাই মিলিত হচ্ছেন একে অপরের সঙ্গে

এবার আশঙ্কা আফ্রিকাকে ঘিরে, করোনার প্রকোপে ছাড়খাড় হতে পারে গোটা মহাদেশ

এই প্রতিবেদনটিকে সামনে রেখেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শনিবার বলেছেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবং জাতীয় সুরক্ষা কর্মকর্তারা এই সম্ভাবনাটি খতিয়ে দেখছেন। বাজারের পরিবর্তে কোনও চিনা পরীক্ষাগার থেকে নতুন করোনভাইরাসটির উদ্ভব হয়ে থাকে, চিন যদি 'জেনেশুনে (এই মহামারির জন্য) দায়ী' হয়, তবে তাদের এর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে বলে হুমকিও দেন তিনি।

২০০৮ সালে মেডিসিন বিভাগে নোবেল পুরষ্কার পাওয়া অধ্যাপক মন্টানিয়ার-এর এই দাবি বিশ্বে চাঞ্চল্য ফেলে দিয়েছে। অবশ্য বিজ্ঞানী মহলের বেশিরভাগই তাঁর দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। এমনকী তাঁর সহকর্মীরাও এই দাবির জন্য তাঁকে নিয়ে উপহাস করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, মন্টানিয়ার এইচআইভি-র বাইরে কিছু ভাবতেই পারেন না, তাই এমন দাবি করছেন। তবে, উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে বায়োসেফটি বা জৈব সুরক্ষার বিষয়ে গাফিলতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। বিশেষত, ইনস্টিটিউটটি উহান-এর ওয়েট মার্কেট, অর্থাৎ যেখানে বিভিন্ন বন্যপ্রাণী বিক্রি করা হয়, তার খুবই কাছে অবস্থিত। কাজেই, জৈব সুরক্ষায় ঘাটতি থাকলে, সেই বাজার থেকে  যে কোনও ভাইরাসই সেই গবেষণাগারে সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তবে উহান ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজির প্রধান ইউয়ান ঝিমিং-সহ চিনা ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা মানতে নারাজ, উহান ইনস্টিটিউটের গবেষণাগার থেকেই ভাইরাসটির উদ্ভব হয়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থে, চিনের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী প্রচেষ্টায় সাফল্যকে ঢেকে, তাদের অপদস্থ করার জন্যই এইসব ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব প্রচারের করা হচ্ছে বলে, তাঁরা অভিযোগ করেছেন।

 

PREV
click me!

Recommended Stories

JPMorgan: অধস্তন কর্মীদের যৌনদাস হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ, কে এই লরনা হাজদিনি?
Indian Navy: মায়ানমারের সঙ্গে নৌ-সম্পর্ক মজবুত করতে সফরে গেলেন নৌসেনা প্রধান