তারা কেউ ভিনদেশে ছিলেন, সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন, কেউ কেউ কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। মোট কথা তাঁরা সকলেই সম্ভাব্য করোনা রোগী। তাঁদের দেহে সংক্রমণ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা ও কোভিড-১৯ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, তার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবেই তাঁদের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হয়েছে। কিন্তু, সেখানে আটকা থাকতে থাকতেই নাকি তাঁরা একে অপরের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। আফ্রিকার দেশ উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের স্থায়ী সচিব সম্প্রতি এই নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।

স্বাস্থ্য সচিব ডায়ানা অ্যাটওয়াইন এক রেডিও টক শোতে এসে জানিয়ছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রক এি প্রবণতা নিয়ে দারুণ উদ্বিগ্ন। সামাজিক দূরত্বের বিধি ভেঙে এই কাজ কোভিড-১৯ রোগের বিস্তারের ঝুঁকি ক্রমে বাড়িয়ে তুলছে। এই রোগ ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রচেষ্টার সঙ্গে উগান্ডান-রা সহযোগিতা করছেন না বলেও সরাসরি অভিযোগ করেছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলিতে প্রত্যেককে আলাদা আলাদা ঘর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, কোয়ারেন্টাইন সেন্টারেই আলাপ হওয়া নারী-পুরুষরা নিজেদের ঘর থেকে বেরিয়ে এসে অন্যদের সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হচ্ছেন।

তাঁর আক্ষেপ, উগান্ডান-রা এখনও এই ভয়ানক সংক্রামক রোগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। যে হোটেলগুলিতে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করা হয়েছে, সেখানে অন্যের ঘরে গিয়ে যৌনতা তো আছেই, অনেক জায়গায় কোনও কোনও ঘরে অফিসের সহকর্মীরা মিলে আড্ডা জমিয়ে দিচ্ছেন। এই অবস্থাটা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এতে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে উগান্ডা সরকারের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের ভিতরের এই অবস্থার কারণেই এখনও কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে কাউকে মুক্তি দেওয়া যাচ্ছে না। আবার যতদিন বাড়ছে কোয়ারেন্টাইনের, ততই সেখানে আটকে থাকা মানুষজন বিধি ভাঙা শুরু করছেন। এই অবস্থায় উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রক ফের একবার কোয়ারেন্টাইনে থাকা নাগরিকদের অন্তত ১৪ টা দিন সরকারের কথা মতো চলার অনুরোধ জানিয়েছে। কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রের অভ্যন্তরে চলাচল বন্ধ করতে নিরাপত্তা অফিসার-ও মোতায়েন করা হয়েছে।

কোভিড-১৯ হটস্পটে হানা রহস্যময় গাড়ির, ছড়িয়ে দেওয়া হল হাজার হাজার টাকা

চারিদিক থেকে বিপদ মৌলানা সাদ-এর, এবার ফাঁসলেন তহবিল তছরুপ-এর মামলায়

করোনাভাইরাস কি তবে বাড়িয়ে দিল বিবর্তনের গতি, দেখুন কেন এই ভিডিও ভাইরাল

উগান্ডায় এখনও পর্যন্ত ৫৫ জন কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগীর সন্ধান মিলেছে। এখনও কারোর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। গত মাসেই সেখানকার স্বাস্থ্যমন্ত্রক করোনাভাইরাস-এর বাড়াবাড়ি সামলাতে হোটেল, হাসপাতাল, লজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়-সহ দেশের মোট ১৭টি প্রতিষ্ঠানে  কোয়াররেন্টাইন সেন্টার বা বিচ্ছিন্নকরণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। এই কেন্দ্রগুলিতে বর্তমানে ২৩২ জনের বেশি মানুষকে রাখা হয়েছে।