ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার বিকেলে, কিন্তু, শুক্রবারও আতঙ্ক কাটছে না বাসিন্দাদের। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরের ক্ষতিপুরা এলাকা। ভারতের কোভিড-১৯ হটস্পটগুলির অন্যতম, তাই চলছে সম্পূর্ণ লকডাউন। তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার দুপুরে এখানে আচমকাই একটি গাড়ি হানা দিয়েছিল বলে অভিযোগ। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সেই গাড়ি থেকে ক্ষতিপুরার একজায়গায় ছড়িয়ে দেওয়া হয় হাজার হাজার টাকার নোট। ওই লোটগুলির মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, এই আতঙ্কেই কাঁপছে এখন এলাকাবাসী।

ইন্দোরের ডিআইজি হরিনায়ারণচারী মিশ্র জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্ষতিপুরার ওই এলাকা থেকে বাসিন্দারা প্রথমে ইন্দোর পৌরসভায় ফোন করে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ওই টাকার নোট পড়ে থাকার খবর দিয়েছিলেন। পৌরসভার কর্তারাই পুলিশ-কে জানান। পরে পুলিশ ও পৌরসভার কর্তারা গিয়ে দেখেন অনেকটা এলাকা জুড়ে বেশ কিছু ৫০০, ২০০, ১০০, ৫০ এবং ১০ টাকার নোট পড়ে রয়েছে। তাঁরা প্রথমেই এলাকাটি ঘিরে ফেলেন। তারপর মাস্ক ও গ্রাভস পড়ে একটি লাঠির সাহায্যে টেনে টেনে নোটগুলি সংগ্রহ করে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ফেলা হয়।

হিরা নগর থানার এসএইচও রাজীব ভাদোরিয়া জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে ৬৪৮০ টাকা উদ্ধার হয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ একটি গাড়ি নিয়ে এসে কেউ বা কারা ওই নোটগুলি ফেলে গিয়েছে। কিন্তু, পুলিশ এই বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নয়। তারা যেখান থেকে নোটগুলি উদ্ধার হয়েছে, সেখানকার সব সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। নোটগুলি আপাতত পুলিশের হেফাজতে সাবধানে রাখা আছে। সেগুলির মধ্য দিয়ে করোনাভাইরাস ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছিল কিনা, তা জানার জন্য প্রতিটি নোট পরীক্ষা করা হবে।

তবে, ওই এলাকার বাসিন্দারা একপ্রকার নিশ্চিত, নোটগুলির মধ্য দিয়ে ভাইরাস ছড়ানোই হচ্ছিল। নইলে অতগুলো টাকা কেউ কেন ফেলে যাবে? তাদের আরও ভয়, এলাকার কিছু অল্পবয়সী ছেলে পড়ে থাকা নোটের থেকে কয়েকটি সরিয়ে থাকতে পারে। পুলিশও সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটে খতিয়ে দেখেই তাদেরও সন্ধান পাওয়া যাবে বলে মনে করছে তারা।

করোনা-কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে যৌন কেলেঙ্কারি, রোগীরাই মিলিত হচ্ছেন একে অপরের সঙ্গে

চারিদিক থেকে বিপদ মৌলানা সাদ-এর, এবার ফাঁসলেন তহবিল তছরুপ-এর মামলায়

 

করোনাভাইরাস কি তবে বাড়িয়ে দিল বিবর্তনের গতি, দেখুন কেন এই ভিডিও ভাইরাল

প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগে একইরকমভাবে উত্তরপ্রদেশের লখনউ-তে একটি পেপার মিল কলোনী বাসিন্দারা নিদ্রাহীন রাত কাটিয়েছিলেন দুটি ৫০০ টাকার নোট থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্কে। সেখানেও এক জায়গায় দুটি ৫০০ টাকার নোট পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। সেই ক্ষেত্রে আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছিল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও। সেই ভিডিও-তে দাবি করা হয়েছিল, সমাজের একাংশের লোক ওই টাকার মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে করোনাভাইরাস ছড়াতে চাইছে।