
প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ১৭ মাস অতিক্রান্ত। বদলের বাংলাদেশে হাসিনা পদত্যাগের পর একের পর এক পালাবদল। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জনগণের সরকার। ফের ক্ষমতায় এসেছে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দল বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী পদে চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবারই শপথ নিয়েছেন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান। তারেক ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সবার জনব্য নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লড়াই, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের ডাক দিয়েছেন তার মন্ত্রিসভার প্রথম ভাষণেই। আর এবার উঠে আসছে আরও একটি নতুন তথ্য। তারেক রহমান সরকারের উদ্যোগে খুব তাড়াতাড়ি পুনরায় চালু হতে পারে বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা সেন্টার। এই নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় কনস্যুলারের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বাংলাদেশি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের জন্য সবরকম ভিসা পরিষেবা চালু করবে ভারত সরকার। এই নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের আলাপ আলোচনাও চলছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই শুরু বাংলাদেশে অশান্তি। নৈরাজ্যের বাংলাদেশে তীব্র হয়ে ওঠে ভারত বিরোধিতা। এই অবস্থায় গত বছর থেকেই মেডিক্যাল এবং ডাবল এন্ট্রি ছাড়া বাংলাদেশিদের জন্য সবরকম ভিসা বন্ধ করে দিয়েছিল ভারত। অবশেষে তারেক জমানায় খুলছে সেই ভিসা জট। পুনরায় ভারত-বাংলাদেশ ভিসা চালুর ব্যাপারে নেওয়া হচ্ছে পদক্ষেপ।
ভারত-বাংলাদেশ ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালুর মাধ্যমে পড়শি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি চাইছে বাংলাদেশ সেকথা বলাই বাহুল্য। এই বিষয়ে বাংলাদেশের সিলেটে নিযুক্ত ভারতের কনস্যুলার অনিরুদ্ধ দাস জানান, পর্যটক ভিসা সহ সবরকমের ভিসা দ্রুত চালুর ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘’দু’দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং মর্যাদার উপর প্রতিষ্ঠিত। হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর বাংলাদেশে সমস্ত ‘ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার’ বা ভিসা প্রদানকারী কেন্দ্র বন্ধ করে দেয় ভারত। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে পরিষেবা চালু হলেও সব ধরনের ভিসা দেওয়া হচ্ছিল না। এবার সমস্ত ধরনের ভিসা পরিষেবা চালুর ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।''
জানা গিয়েছে, গত বছরের শেষের দিকে বাংলাদেশের ছাত্রনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে ফের নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পদ্মাপাড়। অশান্তির আগুনে পুড়ে খাক হয়ে যায় একের পর এক হিন্দুদের বাড়ি। নির্যাতন চালানো হয় সংখ্যালঘুদের উপর। এই অবস্থায় বাংলাদেশিদের জন্য এবং ভারতীয়রা যাতে বাংলাদেশ ভ্রমণে যেতে না পারে তারজন্য় সব ধরনের ভিসা পরিষেবা বন্ধ করে দেয় ভারত সরকার। অবশেষে দীর্ঘ সেই জটিলতা কাটিয়ে আবার চালু হতে চলেছে বাংলাদেশ-ভারত ভিসা পরিষেবা।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের শাসনভার গ্রহনের পরই কঠোর তারেক। নিজের দলের সংসদ সদস্য সহ বাংলাদেশের মুসলাম, হিন্দু, খ্রিস্টান সহ সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে দিয়েছেন কড়া বার্তা। মন্ত্রিসভার বৈঠকের প্রথম ভাষণেই তারেক জানান, দেশে যে কোনও ধরনের অনাচার সিন্ডিকেট ভেঙে দেবেন তিনি। কোনওরকম সিন্ডিকেট, ভাঁওতাবাজি বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের উদ্দেশেও দিয়েছেন অভয় বার্তা।
তিনি আরও বলেন যে, ‘’রমজান মাস আসন্ন। এই সময় বাংলাদেশের বাজারে রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন প্রান্তে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখাই তার সরকারের প্রধান কাজ।'' বাংলাদেশের নব নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘’রমজানের পবিত্র মাসটিকে আপনারা মুনাফা লাভের মাস হিসেবে পরিগণিত করবেন না। জিনিসপত্রের দাম যাতে নাগালের বাইরে না বেরিয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখুন।''