Pakistan: পাকিস্তানে কি আরও একটি সামরিক অভ্যুত্থান আসন্ন? মুনির ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীর মন্তব্যে ইঙ্গিত জোরাল

Published : Aug 08, 2026, 11:10 AM ISTUpdated : Aug 08, 2026, 11:11 AM IST
Asim Munir

সংক্ষিপ্ত

তিনি পাকিস্তানে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কাজ করছেন। পাশাপাশি বৃষ্টিপাত বা বর্ষা-মোকাবিলার প্রস্তুতিও পর্যালোচনা করছেন। পারমাণবিক কমান্ড তাঁর তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এছাড়া তিনি কার্যত তিন বাহিনীর প্রধানও বটে। তিনি হলেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির—পাকিস্তানের প্রকৃত শাসক। যখন সব কাজ তিনিই করছেন, তখন সরাসরি পাকিস্তানের শাসনভার নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন না কেন?

তিনি পাকিস্তানে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কাজ করছেন। পাশাপাশি বৃষ্টিপাত বা বর্ষা-মোকাবিলার প্রস্তুতিও পর্যালোচনা করছেন। পাকিস্তানের কৌশলগত পারমাণবিক কমান্ড তাঁর তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এছাড়া তিনি কার্যত তিন বাহিনীর প্রধানও বটে। তিনি হলেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির—পাকিস্তানের প্রকৃত শাসক। যখন সব কাজ তিনিই করছেন, তখন সরাসরি পাকিস্তানের শাসনভার নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন না কেন? পাকিস্তানের এই 'হাইব্রিড' বা মিশ্র শাসনব্যবস্থার প্রধান এবং দেশটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে তিনি অভূতপূর্ব দ্রুতগতিতে নানাবিধ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। এখন তিনি আরও দায়িত্বের সন্ধানে রয়েছেন। তাঁর কাঁধে নেওয়ার মতো আর মাত্র একটি দায়িত্বই বাকি আছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির সাম্প্রতিক মন্তব্য যদি কোনও ইঙ্গিত বহন করে, তবে বলা যায় যে—আসমি মুনির নামের এক ব্যক্তির ভারে এই হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। পাকিস্তান-পর্যবেক্ষকদের ধারণা, দেশটিতে হয়ত কোনও সামরিক অভ্যুত্থান (বা সামরিক শাসন) আসন্ন।

গত এক বছরে পাকিস্তানের অসামরিক সরকারকে ক্ষমতাহীন বা 'দাঁতভাঙা' (toothless) বলে মনে হয়েছে। ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শাহবাজ শরিফ আসীন থাকলেও কূটনীতি, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এমনকি প্রশাসনিক বিষয়গুলোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আসে পার্শ্ববর্তী রাওয়ালপিন্ডি থেকে। শরিফ প্রশাসনকে কেবল একটি আবরণ হিসেবে ব্যবহার করে আসমি মুনিরই মূলত সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। পাকিস্তান যখন একই সঙ্গে নানাবিধ সঙ্কটের মুখোমুখি, ঠিক তখনই মুনিরের হাতে ক্ষমতার এই কেন্দ্রীভূতকরণ ঘটছে। দেশটির অর্থনীতি ধসে পড়ছে। এর পাশাপাশি বালুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় চলছে তীব্র বিদ্রোহ। অস্থিতিশীলতা ও ভেঙে পড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে পিওকে (POK)-তেও অসন্তোষ ও বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে। আর 'এস্টাবলিশমেন্ট' বা সামরিক কর্তৃপক্ষের চালানো রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের ঘটনা আড়াল করতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের উপর আরোপ করা হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ।

অভ্যুত্থানের দেশ পাকিস্তানে যেমনটা সচরাচর দেখা যায়, এখানেও সামরিক প্রধানই হয়ে উঠছেন এই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ক্ষমতার অবিসংবাদিত কেন্দ্রবিন্দু। আসমি মুনির যখন প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রের তদারকি করছেন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মহসিন নাকভি যখন বলছেন যে পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থা ধসে পড়েছে, তখন প্রশ্ন জাগে—তবে কি আরও একটি সামরিক অভ্যুত্থান আসন্ন?

১৯৪৭ সালের পর থেকে পাকিস্তান চারবার সামরিক অভ্যুত্থানের সাক্ষী হয়েছে। ১৯৫৮, ১৯৭৭ ও ১৯৯৯ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনটি নির্বাচিত অসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল। এছাড়া ১৯৬৯ সালে আরেক সামরিক শাসক আইয়ুব খানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন ইয়াহিয়া খান। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রাক্তন বিদ্রোহী কর্তা ও বর্তমান ইউটিউবার আদিল রাজা দাবি করেছেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বদলে ফেলার একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে সেনাবাহিনী। একটি ইউটিউব ভিডিওতে তিনি আরও বলেন যে, 'গণতান্ত্রিক আবরণের' আড়ালে থেকে মুনির প্রেসিডেন্ট এবং নাকভি প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও লেখিকা আয়েশা সিদ্দিকা মন্তব্য করেছেন যে, মুনিরের উচিত হয় ঘরে ফিরে গিয়ে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া, অথবা পর্দার আড়াল থেকে ক্ষমতা না চালিয়ে সরাসরি মাঠে নেমে সামরিক আইন জারি করে জাতির মুখোমুখি হওয়া। তিনি যুক্তি দেন যে, অনানুষ্ঠানিক সামরিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থা সংক্রান্ত সঙ্কটের সমাধান সম্ভব নয়। এখন মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসা যাক—কেন আমরা এ নিয়ে আলোচনা করছি? প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত ও কারারুদ্ধ করার সময় থেকেই এর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। 'অপারেশন সিঁদুর'-এর পর সেই ইঙ্গিত আরও জোরাল হয়। ওই সময় আসিম মুনির নিজেকে 'ফিল্ড মার্শাল' পদে উন্নীত করেন এবং নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও সুদৃঢ় করেন। তবে মুনিরের অত্যন্ত আস্থাভাজন মহসিন নাকভি যখন ঘোষণা করেন যে পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে (বা অকার্যকর হয়ে গেছে), তখন আসন্ন সামরিক অভ্যুত্থানের জল্পনা নতুন মাত্রা পায়। হ্যাঁ, ইনি সেই নাকভি, যার কাছে ভারতের এশিয়া কাপের ট্রফিটি এখনও রয়েছে—যা তিনি নিজের সঙ্গে নিয়ে চলে গিয়েছিলেন।

সরকার ব্যবস্থা ভেঙে পড়া নিয়ে মহসিন নাকভির বিস্ফোরক মন্তব্য ও এর গুরুত্ব

সিএনএন-এর প্রাক্তন সাংবাদিক এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিকে মুনিরের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কোনও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও 'পাওয়ার ব্রোকার' বা ক্ষমতার নেপথ্য কারিগর হিসেবে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। এমনকি রাজনীতিতে আসার আগে তিনি কোনও সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। সিনেটের (ভারতের রাজ্যসভার অনুরূপ) মাধ্যমে তাঁকে সরাসরি শাহবাজ শরিফের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাই তিনি কোনও সাধারণ মন্ত্রিসভার সদস্য নন। তিনি হলেন 'কিংস ম্যান' বা শীর্ষ ক্ষমতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। নাকভি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন—যা সম্ভবত মুনির ও শরিফের পদের পরেই দেশটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর একটি পদ।

একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় নাকভি স্বীকার করেন যে পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং তিনি যুক্তি দেন যে, দেশটি আর আগের মতো স্বাভাবিক নিয়মে চলতে পারে না। যদিও তিনি সরাসরি সামরিক শাসনের আহ্বান জানাননি, তবুও তাঁর পরিচয় এবং তিনি যাদের প্রতিনিধিত্ব করেন—তার কারণে তাঁর এই মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির প্রতি কটাক্ষ করে জেইউআই-এফ (JUI-F) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান মন্তব্য করেন, "নাকভি সাহেব আমাদের সন্তানের মতো, কিন্তু তিনি সময়ের আগেই সাবালক হয়ে গেছেন।" নাকভি যখন 'এস্টাবলিশমেন্ট' বা সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাকে ইউনিফর্ম খুলে রাজনীতিতে আসার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছিলেন, তার কয়েক সপ্তাহ পরেই এই মন্তব্যটি এল।

মুনির কি অভ্যুত্থানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছেন?

মুনির সত্যিই পাকিস্তানকে আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থানের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা অসম্ভব। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষক মনে করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ এর পরিণতি সরাসরি সামরিক শাসনে গড়াতে পারে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সিএম শেঠ নাকভির মন্তব্যকে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ তিনি লিখেছেন যে, নাকভির এই মন্তব্য পাকিস্তানে ঘটতে যাওয়া ঘটনার ইঙ্গিত এবং সম্ভবত মুনির দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সামরিক আইন জারি করবেন। অবশ্য তিনি এ-ও উল্লেখ করেছেন যে, এটি তাঁর নিজস্ব বিশ্লেষণ।

এখন প্রশ্ন হল আদৌ কি কোনও অভ্যুত্থান আসন্ন?

আইএসআই-এর সাত ঘণ্টার এক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—এমন দু'জন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী-বিরোধী আদিল রাজা দাবি করেছেন যে, পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে দেশের বিদ্যমান ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং তারা একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামো তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজা আরও দাবি করেন, এই পরিকল্পনার জন্য রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নাকভিকে এবং প্রয়োজনে জোরপূর্বক সাংবিধানিক পরিবর্তন আনা হবে। তিনি এমনকি এ-ও বলেছেন যে, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ও তাঁর ছেলে—পিপিপি প্রধান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিকে দেশ থেকে নিরাপদে চলে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত মুনির সামরিক আইনের মাধ্যমে নিজের কর্তৃত্বকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

রাশিয়ার তেল কিনলেই ১০০% শুল্ক! ভারত-চিনকে নিশানা করে মার্কিন সিনেটে বিল পাস
রাশিয়ার তেল কেনায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা? ভারত-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনায় নতুন কাঁটা