আটলান্টিকে হ্যারিকেনের খরা! সেপ্টেম্বরে এখনও একটিও বড় ঝড় নেই, নেপথ্যে কি ভয়ঙ্কর বিপদের ইঙ্গিত?

Published : Sep 17, 2026, 03:23 PM IST
Hurricane in ocean

সংক্ষিপ্ত

২০২৬-এর শান্ত আটলান্টিককে শুধু ‘ঝড়হীন বছর’ হিসেবে দেখলেই হবে না। এর পিছনে থাকা বায়ুমণ্ডলীয় ও সমুদ্রগত পরিবর্তনগুলিও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনে এই পরিবর্তনগুলি কী ভাবে হ্যারিকেনের গতিপ্রকৃতিকে প্রভাবিত করে, এখন সেটাই নজরে রাখছেন আবহবিদেরা

আটলান্টিক মহাসাগর মানেই যেন ঝড়ের আর এক নাম। প্রতি বছর জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চলে হ্যারিকেনের মরসুম। বিশেষ করে অগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই বাড়ে ঝড়ের দাপট। কিন্তু ২০২৬ সালে সেই চেনা ছবি একেবারেই উধাও। সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে পৌঁছেও আটলান্টিক অববাহিকায় তৈরি হয়নি একটিও হ্যারিকেন। এখনও পর্যন্ত কয়েকটি নামকরণযোগ্য ক্রান্তীয় ঝড় তৈরি হলেও হ্যারিকেনের সংখ্যা শূন্য।

স্যাটেলাইট যুগে নজিরবিহীন পরিস্থিতি

১৯৬৬ সাল থেকে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আটলান্টিকে ঝড়ের গতিবিধি নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সেই সময়ের পর থেকে সেপ্টেম্বরের এতটা সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও আটলান্টিকে একটি হ্যারিকেন না তৈরি হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। সাধারণত ১০ সেপ্টেম্বরের আশপাশে আটলান্টিকের হ্যারিকেন মরসুম সর্বোচ্চ সক্রিয় থাকে। অথচ এ বার সেই সময়টিও কেটে গিয়েছে অস্বাভাবিক শান্তিতে।

নেপথ্যে শক্তিশালী এল নিনো?

এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে এল নিনো। এল নিনোর প্রভাবে আটলান্টিক অঞ্চলের বায়ুমণ্ডলে এমন পরিবর্তন তৈরি হতে পারে, যা ঘূর্ণিঝড়ের বিকাশের পক্ষে প্রতিকূল। বিশেষ করে বাতাসের বিভিন্ন স্তরের গতিবেগ ও দিকের পার্থক্য বা ‘উইন্ড শিয়ার’ বেড়ে গেলে সদ্য তৈরি হওয়া ঝড় ছত্রভঙ্গ হয়ে যেতে পারে। ফলে কোনও ক্রান্তীয় ঝড় তৈরি হলেও তার শক্তিশালী হ্যারিকেনে পরিণত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

শুধু উইন্ড শিয়ার নয়, শুষ্ক বাতাস এবং নিম্নমুখী বায়ুপ্রবাহও আটলান্টিকে ঝড়ের বৃদ্ধিতে বাধা দিতে পারে। ফলে বিশাল সমুদ্রজুড়ে আপাতত তৈরি হয়েছে এমন এক পরিবেশ, যেখানে হ্যারিকেনের জন্ম নেওয়াই কঠিন।

প্রশান্ত মহাসাগরে আবার উল্টো ছবি

আটলান্টিক যখন অস্বাভাবিক ভাবে শান্ত, তখন প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অংশে ঝড়ের গতিবিধি তুলনামূলক ভাবে বেশি সক্রিয়। অর্থাৎ ঝড় একেবারে উধাও হয়ে যায়নি; বরং বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির কারণে ঝড় তৈরির অনুকূল অঞ্চল ও পরিবেশে পার্থক্য তৈরি হয়েছে। আটলান্টিকের এই অস্বাভাবিক শান্ত পরিস্থিতি তাই আবহবিদদের কাছে বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বরের শেষে কি আসছে বড় ঝড়?

সেপ্টেম্বরের শেষদিকে আটলান্টিকে বড় হ্যারিকেন আছড়ে পড়ার কোনও নিশ্চিত পূর্বাভাস এখনই নেই। তবে সমুদ্রের বিভিন্ন এলাকায় আবহাওয়াগত পরিবর্তনের উপর নজর রাখছেন আবহবিদেরা। কোনও দুর্বল disturbance তৈরি হলে সেটি পরবর্তী সময়ে কতটা শক্তি সঞ্চয় করবে, তা নির্ভর করবে সমুদ্রের তাপমাত্রা, বাতাসের গতিপথ এবং বায়ুমণ্ডলের অন্যান্য পরিস্থিতির উপর।

তাই এই মুহূর্তে ‘সেপ্টেম্বরের শেষে বড় হ্যারিকেন ধেয়ে আসছে’—এমন দাবি করার মতো নিশ্চিত তথ্য নেই। তবে আটলান্টিকের হ্যারিকেন মরসুম এখনও ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহ পরিস্থিতির উপর নজর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শান্ত আটলান্টিক কি ভবিষ্যতের বিপদের ইঙ্গিত?

এখনকার এই নিস্তব্ধতা অবশ্যই উপকূলবর্তী মানুষের জন্য স্বস্তির। কিন্তু বিজ্ঞানীদের কাছে বিষয়টি শুধুমাত্র ঝড় না হওয়ার আনন্দের নয়। কারণ আবহাওয়ার পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। এল নিনোর প্রভাব কমে গেলে এবং সমুদ্রের জল উষ্ণ থাকলে পরবর্তী মরসুমে আটলান্টিকের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে।

অর্থাৎ ২০২৬-এর শান্ত আটলান্টিককে শুধু ‘ঝড়হীন বছর’ হিসেবে দেখলেই হবে না। এর পিছনে থাকা বায়ুমণ্ডলীয় ও সমুদ্রগত পরিবর্তনগুলিও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনে এই পরিবর্তনগুলি কী ভাবে হ্যারিকেনের গতিপ্রকৃতিকে প্রভাবিত করে, এখন সেটাই নজরে রাখছেন আবহবিদেরা

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

ব্রিকস সম্মেলনে তারেক না যাওয়াতেই ঝাড়খণ্ডে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে, অভিযোগ BNP-র
US Russia Sanctions: ইউক্রেনের পাশে আমেরিকা, রাশিয়ার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞার বিল পাশ