
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মহম্মদ আমিনুল ইসলামকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (ICT) নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। মহম্মদ তাজুল ইসলামের জায়গায় এলেন তিনি। দায়িত্ব নিয়েই আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করাই তাঁর মূল লক্ষ্য হবে, তবে কোনও নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করা হবে না।
সোমবার বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মহম্মদ আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ করেছে। এই বিষয়ে বাংলাদেশের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
সলিসিটর মহম্মদ মঞ্জুরুল হোসেনের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত আমিনুল ইসলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলো পরিচালনা করবেন। এই একই বিজ্ঞপ্তিতে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। তাঁকে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
সোমবার বিকেলে আমিনুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন এবং বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটরের কাছ থেকে সব দায়িত্ব বুঝে নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করাই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করা হবে না। নতুন চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, "জুলাই মাসের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়া চালানো হবে।" এর মাধ্যমে তিনি স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার সঙ্গে বিচারকাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সব সদস্যের বিচার করছে আইসিটি। সম্প্রতি একটি মামলায় আইসিটি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
তাই ICTতে রদবদলের কারণে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি এবার বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন? এই প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে। কারণ ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বাংলাদেশে বিএনপি-র দলীয় কার্যালয় খুলেছেন। তাই এই রদবদলে হাসিনা অনুগামীরা আশার আলো দেখছেন।