ইরান-ইজরায়েল সংঘাত কি আবার বড় যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে? মিসাইল হামলা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালীতে ট্যাঙ্কারে আগুন এবং ২৪ জন ভারতীয়কে উদ্ধারের নেপথ্যে আসল সত্যিটা কী? ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মতবিরোধ কি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মোড় আনবে? আকাশসীমা বন্ধ, তেলের দামে उछाल এবং লেবাননে বাড়তে থাকা মৃত্যু— এই অঞ্চল কি আরও বড় সংকটের দিকে যাচ্ছে?
Hormuz Strait Tensions: পশ্চিম এশিয়ায় যখন মারাত্মক লড়াই চলছে, ঠিক তখনই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পজশকিয়ান এমন এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন, যা বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলে হুলস্থুল ফেলে দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক কড়া বার্তায় পজশকিয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর দেশের কাছে জাতীয় নিরাপত্তা আর মানুষের শান্তিই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তিনি ইজরায়েলকে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, ইরান নিজের অধিকার রক্ষায় সবরকমভাবে লড়বে এবং কোনও হুমকির সামনে মাথা নত করবে না। রহস্য আরও ঘনীভূত হয় যখন তিনি বলেন, ইরান যেমন প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি ছাড়েনি, তেমনই আলোচনার রাস্তাও বন্ধ করেনি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই হুঁশিয়ারির পর ইজরায়েল কি পিছু হটবে?


হরমুজ প্রণালীতে জ্বলন্ত জাহাজ... আর ২৪ জন ভারতীয়র সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা
এরই মধ্যে, সমুদ্রের বুকে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে যা ভারত সরকারের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছিল। হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি তেল ট্যাঙ্কারে হঠাৎই ভয়াবহ আগুন লেগে যায়। প্রাথমিক গোয়েন্দা রিপোর্টে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে জাহাজটির ওপর বড়সড় কোনও হামলা চালানো হয়েছিল। এই জ্বলন্ত জাহাজে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন, যাঁদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। দমবন্ধ করা এক রুদ্ধশ্বাস ও সাহসী অভিযানে ভারতীয় নৌসেনা সময়মতো ওই ২৪ জন ভারতীয়কে মৃত্যুর মুখ থেকে নিরাপদে উদ্ধার করে। এই রহস্যময় দুর্ঘটনার পরেই, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক গুরুতর নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ইরানে থাকা সমস্ত ভারতীয় নাগরিককে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশ ছাড়ার জন্য একটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে।

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে তীব্র বচসা: আমেরিকা কি ইজরায়েলের কাছে প্রতারিত হচ্ছে?
পর্দার আড়ালের সাসপেন্স এখন আরও বাড়ছে। লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা এক চমকপ্রদ তথ্য ফাঁস করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, লেবানন ও ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনে "প্রায় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়" হয়েছে। ট্রাম্প প্রতিদিন এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন এবং তিনি একেবারেই চান না যে এই যুদ্ধ আরও বাড়ুক। ট্রাম্প কড়া ভাষায় নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে যা-ই চূড়ান্ত চুক্তি হোক না কেন, তা ইজরায়েলকে মানতেই হবে। তবে, ইজরায়েল যেভাবে আমেরিকাকে না জানিয়ে বা খুব অল্প সময়ের নোটিশে হামলা চালাচ্ছে, তাতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যেকার ফাটল স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

আকাশে কড়া পাহারা: তিন দেশ আকাশসীমা বন্ধ করেছে, অপরিশোধিত তেলের দামে আগুন
গত ২৪ ঘণ্টায় যুদ্ধক্ষেত্র থেকে যে আপডেটগুলো এসেছে, তা রীতিমতো গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো। এপ্রিলে হওয়া যুদ্ধবিরতিকে উড়িয়ে দিয়ে ইরান ইজরায়েলের ওপর ৩০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে। এর জবাবে ইজরায়েলি ফাইটার জেটগুলো তেহরান, তাবরিজ এবং ইসফাহানে থাকা ইরানের সামরিক ঘাঁটি ও পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টকে নিশানা করেছে। এই রক্তক্ষয়ী খেলার পর ইরান তার পশ্চিম অংশের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে, অন্যদিকে ইরাক ৭২ ঘণ্টা এবং সিরিয়া ১২ ঘণ্টার জন্য তাদের আকাশপথে তালা ঝুলিয়েছে। এই ভয়ঙ্কর উত্তেজনার কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে হাহাকার পড়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩% এর বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৬.৭৫ ডলারে পৌঁছেছে। গোটা বিশ্ব ভয় পাচ্ছে, যদি হরমুজ প্রণালীতে তেলের জোগান বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।

ফুটবলের মাঠেও যুদ্ধের ছায়া: মেক্সিকোয় আশ্রয় নিল ইরান!
এই যুদ্ধের আঁচ अब খেলার মাঠেও পৌঁছেছে। মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা এবং কড়া বিধিনিষেধের কারণে ইরানের জাতীয় ফুটবল দলকে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন ফরমান জারি করেছে যে, বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে ইরানি দল শুধুমাত্র ম্যাচের দিনই আমেরিকায় ঢুকতে পারবে এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার দিনই তাদের দেশ ছাড়তে হবে। এই কড়া নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি দল তাদের ট্রেনিং বেস আমেরিকার অ্যারিজোনায় তৈরি করতে পারেনি এবং বাধ্য হয়ে তাদের মেক্সিকোকে নতুন ঠিকানা বানাতে হয়েছে। একদিকে খেলায় এই দূরত্ব, অন্যদিকে লেবাননে মৃত্যুর তাণ্ডব চলছে, যেখানে ইজরায়েলি হামলায় এখনও পর্যন্ত ৩,৬৩৭ জন নিরীহ মানুষের প্রাণ গেছে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের শান্তি আলোচনা সফল হয়, নাকি এই স্ফুলিঙ্গ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগুনে পরিণত হয়।


