ভারতের ইতিহাসে টানা সবচেয়ে বেশিদিন ধরে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী থাকার জন্য নরেন্দ্র মোদীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিশ্বের তাবড় নেতারা। শ্রীলঙ্কা, পাপুয়া নিউ গিনি এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর রাষ্ট্রপ্রধানরা মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। 

ভারতের ইতিহাসে টানা সবচেয়ে বেশিদিন ধরে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছেন নরেন্দ্র মোদী। এই উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা তাঁকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে নেতারা প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ভারতের যুগান্তকারী পরিবর্তন, গ্লোবাল সাউথের পক্ষে তাঁর সওয়াল এবং এক অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থনৈতিকভাবে গতিশীল ভারত গড়ার স্বপ্নের প্রশংসা করেছেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি আনুরা কুমার দিসানায়কে ৮ জুন তারিখে প্রধানমন্ত্রীকে লেখা একটি চিঠিতে সে দেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি লেখেন, "এই মাইলফলক শুধু আপনার দীর্ঘ কার্যকালের প্রমাণ নয়, বরং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের মানুষ আপনার নেতৃত্বের ওপর যে বারবার আস্থা রেখেছে, সেটাও স্পষ্ট করে।" রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ভারতের অসাধারণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন শ্রীলঙ্কার মতো অনেক দেশকে অনুপ্রাণিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী ৪-৬ এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা সফর করেন, যা ছিল দ্বীপরাষ্ট্রে তাঁর চতুর্থ সফর। এই সফরে তাঁকে শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান 'মিত্র বিভূষণ' প্রদান করা হয়। এই সফরের মাধ্যমে ভারতের 'প্রতিবেশী প্রথম' নীতি আরও জোরদার হয়। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের সময় ভারত যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিল, তা এই বন্ধুত্বের অন্যতম উদাহরণ।

পাপুয়া নিউ গিনি

পাপুয়া নিউ গিনির প্রধানমন্ত্রী জেমস মারাপে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদীকে "নেতৃত্বের রোল মডেল ও উদাহরণ" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেন, "২০ কোটিরও বেশি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে এনে ভালো জীবন দেওয়া এক অসাধারণ কৃতিত্ব।" প্রধানমন্ত্রী মারাপে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন। ২০২৩ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাপুয়া নিউ গিনি সফর করেন। তৃতীয় ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ সহযোগিতা (FIPIC-III) শীর্ষ সম্মেলনে তাঁর এই ঐতিহাসিক সফর প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। এই সফরের মাধ্যমে গ্লোবাল সাউথের একনিষ্ঠ সঙ্গী হিসেবে ভারতের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়।

ত্রিনিদাদ ও টোবাগো

ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ-বিসেসরও প্রধানমন্ত্রী মোদীকে এই উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ভারত আজ বিশ্বের দরবারে এক অগ্রণী কণ্ঠস্বর হিসেবে উঠে এসেছে।" তিনি এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে তিনবার ১৪০ কোটি মানুষের দেশের নেতা হওয়া এবং বিদেশ নীতি, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, পরিকাঠামো ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভারতের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী ৩-৪ জুলাই ২০২৫-এ ত্রিনিদাদ ও টোবাগো সফর করেন। ২৬ বছর পর কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এটাই ছিল প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর, যা ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে ভারতীয় অভিবাসীদের আগমনের ১৮০তম বার্ষিকীর সঙ্গে মিলে যায়।