
টানা দ্বিতীয় দিনের জন্য তাইওয়ানের আশেপাশে চিনের সামরিক কার্যকলাপ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা পর্যন্ত তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক তাদের জলসীমার কাছে একটি চিনা সামরিক বিমান, নয়টি নৌবাহিনীর জাহাজ এবং একটি সরকারি জাহাজ শনাক্ত করেছে। বিমানটি মধ্যরেখা অতিক্রম করে তাইওয়ানের দক্ষিণ-পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পূর্ব এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোনে (ADIZ) প্রবেশ করে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, "আজ সকাল ৬টা (UTC+8) পর্যন্ত তাইওয়ানের চারপাশে PLA-এর ১টি বিমান, PLAN-এর ৯টি জাহাজ এবং ১টি সরকারি জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। ১টি বিমান মধ্যরেখা অতিক্রম করে তাইওয়ানের দক্ষিণ-পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পূর্ব ADIZ-এ প্রবেশ করে। ROC সশস্ত্র বাহিনী পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছে এবং প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।"
এর আগে রবিবারও তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ১৯টি চিনা সামরিক বিমান, নয়টি নৌবাহিনীর জাহাজ এবং দুটি সরকারি জাহাজ তাদের জলসীমার কাছে শনাক্ত করেছিল। ওই ১৯টি বিমানের মধ্যে ১৩টি মধ্যরেখা পার করে তাইওয়ানের উত্তর, মধ্য, দক্ষিণ-পশ্চিম এবং পূর্ব ADIZ-এ ঢুকে পড়েছিল। রবিবারের পোস্টে মন্ত্রক জানায়, "ROC সশস্ত্র বাহিনী পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছে এবং প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।"
তাইওয়ানের উপর চিনের দাবি একটি জটিল বিষয়, যার শিকড় ইতিহাস, রাজনীতি এবং আইনি যুক্তির মধ্যে নিহিত। বেইজিং জোর দিয়ে বলে যে তাইওয়ান চিনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাদের জাতীয় নীতিতে গেঁথে আছে। অন্যদিকে, তাইওয়ান নিজেদের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রেখেছে এবং নিজস্ব সরকার, সেনাবাহিনী এবং অর্থনীতি নিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করে। ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউশন অফ ইন্ডিয়ার মতে, তাইওয়ানের স্থিতি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি বড় বিতর্কের বিষয়, যা সার্বভৌমত্ব এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের মতো নীতিগুলিকে পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।
তাইওয়ানের উপর চিনের দাবির শুরু ১৬৮৩ সালে, যখন কিং বংশ মিং অনুগত কক্সিঙ্গাকে পরাজিত করে দ্বীপটি দখল করে। তবে, কিংদের নিয়ন্ত্রণে তাইওয়ান একটি প্রান্তিক অঞ্চল হিসেবেই ছিল। ১৮৯৫ সালে প্রথম চিন-জাপান যুদ্ধের পর পরিস্থিতি বদলে যায়, যখন কিং বংশ তাইওয়ানকে জাপানের হাতে তুলে দেয়। এরপর ৫০ বছর তাইওয়ান জাপানের উপনিবেশ ছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের পর তাইওয়ান আবার চিনের নিয়ন্ত্রণে আসে, কিন্তু সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। ১৯৪৯ সালে, চিনের গৃহযুদ্ধের ফলে মূল ভূখণ্ডে গণপ্রজাতন্ত্রী চিন (PRC) প্রতিষ্ঠিত হয়, আর প্রজাতন্ত্রী চিন (ROC) তাইওয়ানে পিছু হটে এবং সমগ্র চিনের উপর তাদের শাসনের দাবি জানায়। এর ফলে দুটি সার্বভৌমত্বের দাবি তৈরি হয়: মূল ভূখণ্ডের উপর PRC-র এবং তাইওয়ানের উপর ROC-র। ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউশন অফ ইন্ডিয়ার মতে, তাইওয়ান কার্যত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করলেও, PRC-র সাথে সামরিক সংঘাত এড়াতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করা থেকে বিরত রয়েছে।