Donald Trump On Iran Attack: তার কারণেই নাকি ইরানে হামলা চালিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত একমাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইরান-ইজরায়েল বনাম আমেরিকার সংঘাত নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। কী বলেছেন তিনি?
ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাত-মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ট্রাম্পের
বিগত একমাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে ইরান-ইজরায়েল বনাম আমেরিকার সংঘাত। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের আঁচ বিশ্বের প্রায় প্রত্যেকটা দেশেই পড়েছে। এবার যা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য শোনা গেল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গলায়। প্রতিরক্ষা সচিবের কারণেই তিনি ইরানের উপর হামলা চালিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এখানেই শেষ নয়। ট্রাম্পের দাবি, প্রতিরক্ষা সচিবের উসকানির ফলেই এই যুদ্ধ বেঁধেছে।
26
যুদ্ধের দায় কার উপর চাপালেন ট্রাম্প?
ইরানে যুদ্ধের কারণে পৃথিবী বিভিন্ন দেশে শুরু হয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। যুদ্ধের আঁচে পুড়ছে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশ। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। এই অবস্থায় যুদ্ধের দায় ঠেললেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের উপর। এই বিষয়ে বলতে গিয়ে সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘’পিট আমার মনে হয়ে তুমিই চেয়েছিল ইরানের ওপর হামলা চালানো হোক। তুমি কখনই চাওনি ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র চলে আসুক। তাই এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।'' যদিও ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক দাবির পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে পিটের তরফে কোনও জবাব মেলেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের মাঝে নিজে চুপই ছিলেন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথে।
36
যুদ্ধের দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন ট্রাম্প?
এদিকে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি করে এখন কী মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিবের কাঁধে সমস্ত দোষ চাপিয়ে দায় সেরে ফেলতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে যখন এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ঠিক তখনই ইরান যে পাল্টা বিশ্বজুড়ে তেলের সংকট তৈরি করবে তা হয়ত আশা করেননি ট্রাম্প। ইরানের পাল্টা প্রত্যাঘাতে গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বলছে আগুন। তবে কী এবার পিছু হটতে চাইছে আমেরিকা! যদিও এই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।
মার্কিন প্রশাসনের অনেকেই চাননি ইরানে হামলা চালানো হোক
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে ইজরায়েল-আমেরিকার সংঘাত নিয়ে অনেকেই চাননি ইরানের উপর বিদেশি হামলা হোক। মার্কিন প্রশাসনের অন্দরেই অনেকেই চাননি ইরানের ওপর হামলা করুক আমেরিকা। শুধু তাই নয়, মার্কিন ভাইসল প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও চাননি বিদেশে হামলা হোক। প্রশাসনের কেউ মনে করেন, আমেরিকা না থাকলেও ইজরায়েল ঠিকই ইরানে হামলা করত। আরেকটি অংশের মতে, ইরানে পরমাণু অস্ত্র তৈরি হওয়া আটকানোর প্রয়োজন ছিল তাই হামলা চালানো হয়েছে। অর্থাৎ কেন হামলা হল, কতদিনের মধ্যে অপারেশন সিংহ গর্জন শেষ করা হবে-আমেরিকার কাছে কোনও বিষয়েই স্পষ্ট ধারণা নেই বলে জানা গিয়েছে।
56
ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও জ্বালানি পরিকাঠামোতে হামলা ৫ দিন স্থগিত ট্রাম্পের
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর যে কোনও সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখতে তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন। গত দুই দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনার পর ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নেন। তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার সম্পূর্ণ সমাধানের জন্য দুই দেশের মধ্যে গুরুতর আলোচনা চলছে।
66
কী বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ বলেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, গত দুদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান—উভয় দেশের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান আমাদের পারস্পরিক বৈরিতা ও সংঘাতের পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত সমাধানের লক্ষ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই গভীর, বিস্তারিত এবং গঠনমূলক আলোচনাগুলোর—যা পুরো সপ্তাহজুড়েই অব্যাহত থাকবে—সারমর্ম ও সুরের ওপর ভিত্তি করে আমি যুদ্ধ বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি যেন ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর যে কোনও ধরনের সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়। অবশ্য এই স্থগিতাদেশ চলমান বৈঠক ও আলোচনার সফলতার ওপর নির্ভরশীল। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ!”