দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার এক বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল পাকিস্তান সরকার। রবিবার সেদেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে হাই-অক্টেন জ্বালানির ওপর লেভি (Levy) বা কর এক লাফে ২০০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
26
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পাকিস্তানে
এই বিষয়ে পাক সংবাদ মাধ্যম এআরওয়াই নিউজে (ARY News) প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গিয়েছে যে, এর আগে প্রতি লিটার হাই-অক্টেন জ্বালানিতে কর ছিল ১০০ পাকিস্তানি রুপি (PKR), যা এখন বাড়িয়ে ৩০০ রুপি করা হয়েছে।
36
কর বৃদ্ধির প্রস্তাবে অনুমোদন শাহবাজ সরকারের
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্বয়ং এই কর বৃদ্ধির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন। মূলত বিলাসবহুল যানবাহনে ব্যবহৃত এই বিশেষ জ্বালানির ওপর কর বাড়িয়ে সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে দেশের বর্তমান জ্বালানি মূল্য পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক স্বস্তি নিশ্চিত করার বিষয়েও পর্যালোচনা করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছে পাকিস্তান। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আইন ও বিচার মন্ত্রী আজম নাজির তারার, অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক। এছাড়াও সরকারের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেন।
56
হঠাৎ এই দাম বৃদ্ধি নিয়ে কী বলছে পাকিস্তান সরকার?
এর আগে গত ৬ মার্চ বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতির দোহাই দিয়ে সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ৫৫ টাকা (PKR) বৃদ্ধি করেছিল। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাতের ফলে জ্বালানি আমদানিতে যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা সামাল দিতেই সরকার এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
66
পাকিস্তানে পেট্রোল ও ডিজেলের নতুন মূল্য ঘোষণা
পাকিস্তানে পেট্রোল: প্রতি লিটার ২৬৬.১৭ টাকা থেকে বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ৩২১.১৭ পাকিস্তানি রুপিতে। ডিজেল: প্রতি লিটার ২৮০.৮৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৩৫.৮৬ পাকিস্তানি রুপি করা হয়েছে। জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অন্যান্য খাতেও। এয়ারলাইন সূত্রের বরাত দিয়ে এআরওয়াই নিউজ (ARY News) জানিয়েছে, জেট ফুয়েলের দাম বাড়ার কারণে গত ১০ মার্চ থেকেই পাকিস্তানি এয়ারলাইনগুলো তাদের টিকিটের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটে বিমান ভাড়া সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।