
ভুটানে হিমবাহের বরফ গলে তৈরি হ্রদ ফেটে (Glacial Lake Outburst Flood বা GLOF) ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় ভুটানের গাসা জেলার শিন্তাফু (Shintaphu) হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বিপুল পরিমাণ জল নেমে আসে।
ভুটানে হিমবাহের বরফ গলে তৈরি হ্রদ ফেটে (Glacial Lake Outburst Flood বা GLOF) ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় ভুটানের গাসা জেলার শিন্তাফু (Shintaphu) হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বিপুল পরিমাণ জল নেমে আসে। প্রায় ৭৪ লক্ষ ঘনমিটার জল ও পলি হঠাৎ নেমে আসায় ভুটানের বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বন্যার জেরে জনপ্রিয় গাসা ত্সাচু উষ্ণ প্রস্রবণ কেন্দ্র সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। লায়া গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগকারী রাস্তার একাংশও জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পুনাখা-গাসা জাতীয় সড়ক এবং একাধিক সেতু। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঐতিহাসিক পুনাখা জং সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ৩০ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত ভুটানে কোনও প্রাণহানি বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এই বন্যার প্রভাব এবার ভারতেও পড়ার আশঙ্কা। ভুটানের মো চু নদী, ফো চু নদীর সঙ্গে মিশে পুনাতসাংছু নদী তৈরি করেছে। সেই নদীই ভারতে সংকোশ নামে প্রবেশ করে। ফলে সংকোশ নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বিশেষ বন্যা সতর্কতা জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় জল কমিশন। উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিংয়ের কিছু এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অসমের ধুবড়ি ও সংলগ্ন এলাকাতেও প্রশাসনকে সতর্ক রাখা হয়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলায় ইতিমধ্যেই ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েক হাজার মানুষকে ত্রাণশিবির ও স্কুলে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।