
বৃহস্পতিবার ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF) জানিয়েছে, গত রাতে বেইরুটে হামলা চালিয়ে তারা হিজবুল্লাহর সেক্রেটারি-জেনারেল নাইম কাসেমের ভাইপো এবং ব্যক্তিগত সচিবকে হত্যা করেছে। IDF টেলিগ্রামে একটি বিবৃতিতে জানায়, লেবাননের রাজধানীতে রাতের অভিযানে আলি ইউসুফ হারশিকে খতম করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর মতে, হারশি ছিলেন কাসেমের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং উপদেষ্টা। হিজবুল্লাহ নেতার অফিস পরিচালনা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "গতকাল (বুধবার), IDF বেইরুট এলাকায় হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহ সেক্রেটারি-জেনারেল নাইম কাসেমের ব্যক্তিগত সচিব ও ভাইপো আলি ইউসুফ হারশিকে খতম করেছে। হারশি কাসেমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ব্যক্তিগত উপদেষ্টা ছিলেন এবং তার অফিস পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করতেন।"
IDF আরও জানিয়েছে যে তারা বৈরুত এবং তার আশেপাশে হিজবুল্লাহর একাধিক পরিকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে।
বিবৃতি অনুসারে, লিটানি নদীর উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে সংযোগকারী দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়েও হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, হিজবুল্লাহ সদস্যরা এই পথগুলো অস্ত্রশস্ত্র, যেমন রকেট ও লঞ্চার, পাচারের জন্য ব্যবহার করত।
পাশাপাশি, ইজরায়েলি সেনা জানিয়েছে যে তারা দক্ষিণ লেবাননে প্রায় ১০টি জায়গায় হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ছিল হিজবুল্লাহর অস্ত্র ভান্ডার, লঞ্চার এবং কমান্ড সেন্টার।
অন্য একটি আপডেটে IDF জানায়, তাদের ১৬২তম ডিভিশন দক্ষিণ লেবাননে নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় স্থল অভিযান চালাচ্ছে। ৪০১তম ব্রিগেডের সেনারা জঙ্গিদের ব্যবহৃত একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের সন্ধান পেয়েছে।
অভিযান চলাকালীন, সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে আসার সময় এক জঙ্গিকে খতম করা হয় এবং সেখান থেকে বিস্ফোরক, রকেট, আরপিজি লঞ্চার ও গ্রেনেডের মতো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
IDF আরও দাবি করেছে যে তাদের ২১৫তম ফায়ার ব্রিগেডের সেনারা বিভিন্ন অভিযানে ৭০ জনেরও বেশি জঙ্গিকে হত্যা করেছে। এদের মধ্যে একটি দল মর্টার হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে অভিযোগ। অন্য একটি ঘটনায়, হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুক্ত একটি বাড়িতে দুই জঙ্গি প্রবেশ করার সময় বিমান হামলায় তাদের নিশানা করা হয়।
এদিকে, নাহাল ব্রিগেডের সেনারা প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র খুঁজে পেয়েছে এবং হিজবুল্লাহর একাধিক ঘাঁটি ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক লঞ্চ সাইট এবং পর্যবেক্ষণ পোস্টও ছিল। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে টানাপোড়েন চলছে।
তেহরান জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবাননে ইজরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ রাখাও অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু ওয়াশিংটন এবং ইজরায়েল উভয়েই জানিয়েছে যে এই যুদ্ধবিরতি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এই মতবিরোধের কারণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে।