
আমেরিকা-ইরান সংঘাত আপাতত কিছুটা থামলেও ওয়াশিংটনের সুর নরম হওয়ার কোনও লক্ষণ নেই। বরং, দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি শুরু হতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে সামরিক সাহায্যকারী দেশগুলোর উদ্দেশে এক কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন।
বুধবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যালে' একটি পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন, ইরানকে অস্ত্র সরবরাহকারী যে কোনও দেশকে এর অর্থনৈতিক ফল ভুগতে হবে।
তিনি লেখেন, “যদি কোনও দেশ ইরানকে সামরিক অস্ত্র সরবরাহ করে, তাহলে আমেরিকার কাছে বিক্রি করা তাদের সমস্ত পণ্যের ওপর অবিলম্বে ৫০% শুল্ক চাপানো হবে। এই নিয়ম সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে এবং এক্ষেত্রে কোনও ছাড় বা ব্যতিক্রম থাকবে না।”
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি তেহরানের সঙ্গে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করেন। সেই ঘোষণার পর অন্য একটি পোস্টে তিনি জানান, তাঁর প্রশাসন ইরানের সঙ্গে "শুল্ক এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে কথা বলছে"। এই যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে ইরান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে খুলে দিতে রাজি হয়েছে।
ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, ইরান আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না। এবং গত বছরের মার্কিন বিমান হানার পর মাটির গভীরে পুঁতে রাখা পারমাণবিক উপাদান "খুঁড়ে বের করে সরাতে" দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।
ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প পোস্ট করেন, "আমেরিকা ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। আমরা বুঝতে পেরেছি যে ইরানে একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে!"
তিনি আরও বলেন, "আর কোনও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ হবে না। এবং আমেরিকা, ইরানের সঙ্গে মিলে, গভীরে পুঁতে রাখা সমস্ত পারমাণবিক 'ধুলো' (বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে যা তৈরি হয়েছিল) খুঁড়ে বের করে সরিয়ে দেবে।"
এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এল, যখন আমেরিকা ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এর ফলে এমন একটি পরিস্থিতি এড়ানো গেছে, যাকে ট্রাম্প নিজে "গোটা একটা সভ্যতা ধ্বংস" হয়ে যাওয়ার সামিল বলে বর্ণনা করেছিলেন।
এই চুক্তিকে নিজের জয় হিসেবে দাবি করে ট্রাম্প এএফপি-কে বলেন, এই যুদ্ধবিরতি একটি "সম্পূর্ণ এবং চূড়ান্ত বিজয়"।
চুক্তি অনুযায়ী:
ট্রাম্প তেহরানের প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দিয়ে বলেন: ইরান "হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ, অবিলম্বে এবং নিরাপদে খুলে দিতে" রাজি হয়েছে।
এই চুক্তির নেপথ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছেন শেহবাজ শরিফ। ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে এই সাফল্যের আগে তিনি পাকিস্তানি নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছেন। পরে শরিফ ঘোষণা করেন যে, পরবর্তী দফার আলোচনা ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার থেকে আলোচনা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শরিফের কথায়, দুই পক্ষই একটি "চূড়ান্ত চুক্তিতে" পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা করবে।
তেহরান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও, তাদের দীর্ঘদিনের দাবিতে কোনও নরম মনোভাব দেখায়নি।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের প্রস্তাবে যা যা রয়েছে:
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি প্রণালী সাময়িকভাবে খুলে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, যা বিশ্বজুড়ে শক্তি সরবরাহ স্থিতিশীল করার জন্য অত্যন্ত জরুরি। তবে, এই দাবিগুলোর বেশ কয়েকটি আমেরিকার আগের অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক, যা আগামী আলোচনাকে শুরু থেকেই বেশ জটিল করে তুলেছে।