
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মধ্যে পাকিস্তানের প্রাক্তন হাই কমিশনার আব্দুল বাসিত ভারতকে নিয়ে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। একটি কাল্পনিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন যে, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে আক্রমণ করে, তবে পাকিস্তানের উচিত ভারতকে টার্গেট করা। আব্দুল বাসিত বলেন, "ভাবুন তো, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে আক্রমণ করে, তাহলে পাকিস্তানের উচিত মুম্বাই ও দিল্লির মতো ভারতীয় শহরগুলিতে হামলা করা। আমরা তখন পিছু হটব না। এরপর কী ঘটবে তা পরে দেখা যাবে।"
পাকিস্তানের এই প্রাক্তন কূটনীতিকের মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বিরাজ করছে। বাসিত বারবার পরিস্থিতিটিকে ‘অসম্ভাব্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন—এমনকি একে ‘অসম্ভবেরও অতীত’ বলে অভিহিত করেছেন—তবুও তিনি সেই একই যুক্তির অবতারণা করেছেন। তিনি আরও বলেন, "কেউ যদি আমাদের প্রতি কুদৃষ্টি দেয়, তবে পাকিস্তানের সামনে ভারত আক্রমণ করা ছাড়া—যেখানেই তারা উপযুক্ত মনে করুক না কেন—আর কোনও বিকল্প থাকবে না। আমরা চাই না এমনটা ঘটুক। ভারতও নিশ্চয়ই তা চায় না।"
ভারতে তিন বছর হাই কমিশনার
এই সেই আব্দুল বাসিত, যিনি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে তিন বছর পাকিস্তানের হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৮২ সালে পাকিস্তানের ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাকিস্তানি দূতাবাসে উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ভারতে আসার আগে বাসিত ২০১২ সালের মে থেকে ২০১৪ সালের মার্চ পর্যন্ত জার্মানিতে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে তাঁকে ভারতে বদলি করা হয়, যেখানে তিনি তিন বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেন। যিনি দিল্লি ও মুম্বাইয়ের রাস্তাঘাট কাছ থেকে দেখেছেন, তার পক্ষে এই শহরগুলিতে সন্ত্রাস চালানোর কথা বলাটা তাঁর মানসিকতাকেই স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।
উল্লেখ্য যে, বাসিতের এই বিবৃতি এমন এক সময়ে এসেছে যখন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানি বিমান বাহিনী কাবুল, কান্দাহার ও পাক্তিকা-সহ আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি এলাকা লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমা হামলা চালিয়েছে। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ গুরুতর অভিযোগ করে দাবি করেছেন যে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কাবুলের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় হাসপাতালে বোমা হামলা চালিয়েছে। এই দাবি অনুযায়ী, হামলায় ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ২৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। আফগান কর্মকর্তারা বলছেন, এই হামলায় আবাসিক এলাকাগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং নারী ও শিশুসহ বহু নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছেন। তালিবান এটিকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত যখন উত্তপ্ত, তখন পাকিস্তানের সাবেক কূটনীতিকরা ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন।