ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার কাছে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, এই খবর নিশ্চিত করেছে USGS। 'রিং অফ ফায়ার'-এর এই কম্পন কি বড় বিপদের ইঙ্গিত? আপাতত সুনামির সতর্কতা নেই, তবে আফটারশকের দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছে ৬.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মার্কিন সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল আচেহ প্রদেশের কাছে সমুদ্রে। স্বস্তির খবর, এখনও পর্যন্ত কোনও বড় ক্ষয়ক্ষতি বা সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছেন। এই কম্পন কি কোনও বড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে?
27
USGS-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল অফশোর, অর্থাৎ সমুদ্রের গভীরে। কম্পন স্থলে না হয়ে সমুদ্রে হলে উপকূলীয় এলাকায় ক্ষতির ঝুঁকি কিছুটা কমে, বিশেষ করে যদি এর গভীরতা বেশি হয়। আপাতত কোনও বড় ধরনের প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষতির খবর নেই। ইন্দোনেশিয়ার আধিকারিকরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন এবং উপকূলীয় এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
37
এখনও পর্যন্ত সুনামির কোনও সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে মনে রাখতে হবে, সমুদ্রের তলার সব ভূমিকম্পই সুনামি ডেকে আনে না। এটি ভূমিকম্পের গভীরতা, মাত্রা এবং সমুদ্রতলের আলোড়নের মতো বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। ২০০৪ সালে এই অঞ্চলের কাছেই ৯.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প ভয়াবহ ভারত মহাসাগরীয় সুনামির সৃষ্টি করেছিল। সেই বিপর্যয়ে ২ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে আচেহ প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
ইন্দোনেশিয়া 'প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ার' (Pacific Ring of Fire)-এর উপর অবস্থিত। এটি বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল। এখানে ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান, ইউরেশিয়ান এবং প্যাসিফিক টেকটোনিক প্লেটগুলি একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। বিশেষ করে সুমাত্রা একটি বড় সাবডাকশন জোনের কাছে রয়েছে, যেখানে একটি প্লেট অন্যটির নীচে চলে যায়। এই কারণেই এখানে নিয়মিত ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ দেখা যায়।
57
সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি কম্পন হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
জাভার দক্ষিণে ৫.৮ মাত্রা
পাপুয়ায় ৬.৭ মাত্রা
এবং আরও বেশ কয়েকটি ছোট আফটারশক
এই ঘটনাগুলি প্রমাণ করে যে ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে একটি সক্রিয় ভূমিকম্প পর্যায়ে রয়েছে।
67
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (BMKG) ক্রমাগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ছোট ছোট আফটারশক হওয়াটা স্বাভাবিক। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, তবে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
77
আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলেই মনে হচ্ছে। কোনও বড় ধ্বংসযজ্ঞের খবর নেই, সুনামির সতর্কতাও জারি হয়নি। কিন্তু সুমাত্রার ইতিহাস বলে যে এই অঞ্চলটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই ইন্দোনেশিয়ার আজকের ভূমিকম্পের আপডেটের দিকে নজর রেখেছে গোটা বিশ্ব।