
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ল। শনিবার ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি কিছু ছবি প্রকাশ করে দাবি করেছে, তারা কুয়েতে একটি মার্কিন CH-47 হেলিকপ্টারকে নিশানা করেছে। যদিও এই বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ইরানের আর একটি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ভেঙে পড়া মার্কিন F-15E স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানের পাইলটকে খোঁজার সময় একটি মার্কিন হেলিকপ্টারে ইরানের ছোড়া মিসাইল আঘাত হানে।
সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের আকাশে ভেঙে পড়া মার্কিন F-15E যুদ্ধবিমানের এক চালককে মার্কিন বাহিনী উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া ওই ব্যক্তি জীবিত এবং মার্কিন হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে বিমানটিতে থাকা দ্বিতীয় চালকের কী হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর খোঁজে "সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশন" চলছে।
জানা গিয়েছে, দুটি আসন থাকা F-15E বিমানটিকে শুক্রবার নিশানা করা হয়। ইরানের সংবাদমাধ্যমের প্রকাশ করা ছবি বিশ্লেষণ করে সিএনএন নিশ্চিত করেছে যে, ধ্বংসাবশেষটি একটি F-15 বিমানেরই। এদিকে, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানের সরকারি সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি এক্স হ্যান্ডেলে একটি মানচিত্র শেয়ার করেছে, যেখানে বিমানটির খোঁজে তল্লাশি চালানো অঞ্চলের কথা বলা হয়েছে।
বিমানটি ঠিক কোথায় ভেঙে পড়েছে তা নিশ্চিত না হলেও, সিএনএন ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের একটি ফুটেজ জিওলোকেট করেছে। সেখানে আকাশে জ্বালানি ভরার ফর্মেশনে নিচু দিয়ে বিমান উড়তে দেখা গিয়েছে। চলতি সংঘাতে এই প্রথম ইরানের আকাশে কোনো মার্কিন বিমান ভেঙে পড়ল। ধ্বংসাবশেষ থেকে জানা গিয়েছে, বিমানটি ব্রিটেনের আরএএফ লেকেনহিথ ঘাঁটিতে থাকা ৪৯৪তম ফাইটার স্কোয়াড্রনের অন্তর্গত।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক স্তরেও চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এনবিসি নিউজের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে, এই বিমান ধ্বংসের ঘটনায় ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় কোনো প্রভাব পড়বে না। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "না, একেবারেই না। এটা যুদ্ধ। আমরা একটা যুদ্ধের মধ্যে আছি।"
এদিকে, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, ইরানের হাতে যদি নিখোঁজ চালক ধরা পড়েন বা তাঁর কোনো ক্ষতি হয়, তাহলে আমেরিকা কী পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি।
শুক্রবার একটি সংক্ষিপ্ত ফোনালাপে দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, "আমি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না, কারণ আমরা আশা করি এমনটা ঘটবে না।"
এই উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান আরও একটি বড় দাবি করেছে। আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে তারা একটি মার্কিন A-10 অ্যাটাক বিমানকেও সফলভাবে ধ্বংস করেছে। শুক্রবার মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার দ্বিতীয় একটি যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার খবরের পরেই এই দাবি সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হলেও, পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউস এই বিমানগুলির অবস্থা বা দাবির সত্যতা নিয়ে "অবিলম্বে কোনো মন্তব্য" করেনি। আল জাজিরার রিপোর্টে তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন A-10 বিমানটি ধ্বংস করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দল জানিয়েছে, "কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের দক্ষিণে বিমানটিকে নিশানা করা হয়।"
যদিও এই দাবিগুলি অন্য কোনো সূত্রে যাচাই করা যায়নি। প্রযুক্তিগত তথ্য অনুযায়ী, A-10 হল একটি মার্কিন গ্রাউন্ড-অ্যাটাক বিমান, যা মূলত সাঁজোয়া যান এবং স্থলবাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।