
হরমুজ প্রণালী নিয়ে বড় খবর। বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করল ইরান। বৃহস্পতিবার ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরপরই ইরান এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তারা জানিয়েছে যে যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়টুকুতে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে খোলা থাকবে। এই জলপথটি সকল বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খোলা থাকবে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি 'এক্স' (X) প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে ঘোষণা করেছেন, “লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়টুকুতে হরমুজ প্রণালী সকল বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলের জন্য সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত ঘোষণা করা হল। এই চলাচলের জন্য সেই পথটিই নির্ধারিত থাকবে, যা ইতিপূর্বে ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থার পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল।"
ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায়। তারপর থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত। ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরান এইমাত্র ঘোষণা করেছে যে, ইরানের প্রণালীটি পুরোপুরি উন্মুক্ত এবং পূর্ণ চলাচলের জন্য প্রস্তুত। ধন্যবাদ!”
ইজরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি চুক্তি
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প লেবানন ও ইজরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা করেন। জানান যে তিনি দুই দেশের নেতাদের মধ্যে প্রথমবারের মতো একটি বৈঠকের আয়োজনের চেষ্টা করছেন। দুই যুদ্ধরত দেশের মধ্যে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি মূলত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছনোর মার্কিন প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে এসেছে। তেহরান জোরাল দাবি জানিয়েছিল যে যে কোনও চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননে একটি যুদ্ধবিরতি অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। ট্রাম্প জানান, ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে অত্যন্ত চমৎকার ফোনালাপের পরেই এই সংঘাত-বিরতি চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে।
ট্রাম্প তাঁর 'ট্রুথ সোশ্যাল' (Truth Social) নেটওয়ার্কে লিখেছেন, “এই দুই নেতা একমত হয়েছেন যে, তাঁদের দেশগুলোর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি শুরু করবেন—যা ইএসটি (EST) সময় বিকেল ৫টায় (বা জিএমটি [GMT] সময় ২১:০০টায়) কার্যকর হবে।” পরবর্তীতে তিনি জানান, তিনি আশা করছেন যে, নেতানিয়াহু এবং আউন আগামী চার বা পাঁচদিনের মধ্যেই হোয়াইট হাউস সফরে আসবেন।