
রাতের আকাশে চাঁদকে দেখে আমরা অভ্যস্ত। প্রেম, কবিতা, জোৎস্না সবকিছুই তাকে ঘিরে। কিন্তু মহাকাশের নিয়মে সেই চাঁদই ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। তবে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে কী হবে?
*১. দিন হবে ২৫ ঘণ্টার:*
চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর ঘূর্ণনকে টেনে ধরে রাখে, ব্রেকের মতো কাজ করে। চাঁদ দূরে সরে গেলে এই ব্রেক আলগা হবে। ফলে পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি বাড়বে না, বরং পৃথিবীর নিজের ঘূর্ণন আরও ধীর হবে। বিজ্ঞানীদের হিসাব বলছে, আজ থেকে ১০ কোটি বছর পর পৃথিবীতে দিন হবে ২৫ ঘণ্টার।
*২. জোয়ার-ভাটা কমে যাবে:*
সমুদ্রে জোয়ার-ভাটা হয় মূলত চাঁদের টানে। চাঁদ দূরে চলে গেলে তার টান কমবে। ফলে সমুদ্রের জোয়ার-ভাটার উচ্চতা অনেক কমে যাবে। এর প্রভাব পড়বে সামুদ্রিক জীবন ও মৎস্যজীবীদের ওপর।
*৩. আর পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না:*
এখন চাঁদ ও সূর্যকে আকাশে প্রায় একই মাপের দেখায়, তাই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হয়। চাঁদ আরও দূরে চলে গেলে তাকে অনেক ছোট দেখাবে। তখন সে আর সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে পারবে না। আজ থেকে প্রায় ৬০ কোটি বছর পর শেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখবে পৃথিবী।
*৪. পৃথিবী টলমল করবে:*
চাঁদ পৃথিবীর অক্ষকে স্থির রাখে। অনেকটা লাট্টুর মতো। চাঁদ দূরে সরে গেলে পৃথিবীর অক্ষ টলমল করতে শুরু করবে। এর ফলে জলবায়ুতে চরম পরিবর্তন আসবে। কোথাও প্রচণ্ড গরম, কোথাও বরফ যুগ নেমে আসতে পারে।
তবে ভয় নেই। নাসার বিজ্ঞানীরা অ্যাপোলো মিশনের সময় চাঁদে যে আয়না বসিয়ে এসেছিলেন, তার লেজার পরিমাপ থেকে জানা গেছে, চাঁদ প্রতি বছর পৃথিবী থেকে *৩.৮ সেন্টিমিটার* করে দূরে সরে যাচ্ছে। মানে আপনার নখ যতটুকু বাড়ে, প্রায় ততটাই। এখনই অবশ্য এর প্রভাব নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। এই সবকিছু ঘটতে এখনও কোটি কোটি বছর বাকি। আপাতত জোৎস্না রাতে চাঁদের আলো উপভোগ করুন, কারণ সে ধীরে ধীরে আমাদের ছেড়ে যাচ্ছে।