বালোচ ভয়েস অ্যাসোসিয়েশনের মুনির মেঙ্গাল রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে জানিয়েছেন, পাকিস্তানে বালোচ পড়ুয়ারা চরম বর্ণবৈষম্য ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ইয়েমেন ও ইরানের মতো এখানেও গুম খুনের ঘটনা ঘটছে।

জেনেভায় রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ৬৩তম অধিবেশনে বালোচ ভয়েস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুনির মেঙ্গাল এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তিনি জানান, পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধু এবং ইসলামাবাদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে বালোচ পড়ুয়ারা চরম বর্ণবৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

বর্ণবাদ ও অসহিষ্ণুতা সংক্রান্ত ৯ নম্বর এজেন্ডায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেঙ্গাল বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার নামে বালোচ পড়ুয়াদের টার্গেট করা হচ্ছে। তাঁদের ওপর নজরদারি চালানো, হয়রানি করা, মিথ্যে মামলা দেওয়া থেকে শুরু করে হস্টেল থেকে জোর করে বের করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি গুম করার মতো ঘটনাও ঘটছে।

বালোচ পড়ুয়াদের প্রতি এই বৈষম্যের কথা বলতে গিয়ে মেঙ্গাল বলেন, "২০২৬ সালের আগস্ট মাসে করাচির একটি মেস থেকে পাঁচজন বালোচ পড়ুয়াকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।" তিনি ২০২২ সালে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের একটি মামলার কথাও উল্লেখ করেন। সেখানে বালোচ পড়ুয়াদের ওপর বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আদালত একটি কমিশন গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল।

বৈষম্যের বৃহত্তর চিত্র

মেঙ্গাল জানান, পাকিস্তানে যা ঘটছে তা আসলে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চলা জাতিগত বৈষম্যেরই একটা অংশ। তিনি ইয়েমেনের মুহামাশিন সম্প্রদায়ের কথা তুলে ধরেন। গায়ের রং ও বংশপরিচয়ের কারণে তারা সেখানে জাতপাতের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি ইরানের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অবস্থাও তুলে ধরেন তিনি।

ইরান নিয়ে উদ্বেগ

ইরান প্রসঙ্গে মেঙ্গাল বালোচ, কুর্দ, আহওয়াজি আরব এবং আজারবাইজানি তুর্কিদের ওপর হওয়া বৈষম্যের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, সেখানে সংখ্যালঘুদের ওপর জাতিগত বৈষম্য, মাত্রাতিরিক্ত মৃত্যুদণ্ড, পক্ষপাতদুষ্ট রায় এবং জাতীয় নিরাপত্তার নামে মিথ্যে মামলা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইয়েমেনের মুহামাশিন, ইরানের সংখ্যালঘু এবং পাকিস্তানের বালোচ পড়ুয়ারা যেভাবে একঘরে হয়ে পড়ছেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের আরও বেশি নজর দেওয়া উচিত।

আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি

ডারবান ডিক্লারেশন অ্যান্ড প্রোগ্রাম অফ অ্যাকশন যাতে ঠিকমতো কার্যকর হয়, রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের কাছে সেই আর্জি জানান মেঙ্গাল। পাশাপাশি, সব ধরনের বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ কনভেনশন (CERD) মেনে চলার জন্য সদস্য দেশগুলোর প্রতিও তিনি আহ্বান জানান।

জাতপাত, জাতিসত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে তৈরি হওয়া এই বৈষম্যের কাঠামো ভেঙে ফেলার ডাক দেন তিনি। যারা এই ধরনের বৈষম্যমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের শাস্তির দাবিও জানান মেঙ্গাল। মেঙ্গাল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মুহামাশিন, ইরানের সংখ্যালঘু এবং বালোচ পড়ুয়াদের সম্মান নিয়ে কোনও আপস করা চলবে না।”