
২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে যে রাজনৈতিক শক্তিগুলি একসঙ্গে আন্দোলনের ময়দানে নেমেছিল, এবার তাদেরই দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্য সংঘর্ষের অভিযোগ সামনে এল। হবিগঞ্জে 'জুলাই পদযাত্রা' শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র নেতাদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। ঘটনায় একাধিক নেতা-কর্মী আহত হওয়ার পাশাপাশি ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগও করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার দেশজুড়ে কর্মসূচির ঘোষণা করেছে ইসলামি ছাত্রশিবির।
হবিগঞ্জে 'জুলাই পদযাত্রা' ঘিরে উত্তেজনা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে হবিগঞ্জের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ জেলা সার্কিট হাউসের সামনে এনসিপির নেতাদের উপর হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, টাউন হলের সামনে 'জুলাই পদযাত্রা' কর্মসূচি শেষ করে ফেরার সময় এনসিপি নেতাদের বহনকারী গাড়ির উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
হামলার মুখে পড়ে দলের নেতারা নিরাপত্তার জন্য নিকটবর্তী সোনালি ব্যাংকের একটি শাখায় আশ্রয় নেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ছাত্রদলের বিরুদ্ধে এনসিপির অভিযোগ
এনসিপির অভিযোগ, বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরাই এই হামলার সঙ্গে যুক্ত। হামলায় দলের ১০ থেকে ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারির গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
শুধু তাই নয়, এনসিপির দাবি, হামলাকারীরা দলের মিডিয়া টিমের ক্যামেরা-সহ একাধিক মূল্যবান সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেয়। গাড়িচালক, মিডিয়া টিমের সদস্য এবং উপস্থিত কর্মীদের উপরও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে এনসিপি।
ছাত্রশিবিরের প্রতিবাদ, দেশজুড়ে কর্মসূচি
এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির। সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘটনাকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর আঘাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার প্রতিবাদে বুধবার সারা দেশে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন প্রশ্ন
২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে বিরোধী আন্দোলনে একাধিক রাজনৈতিক শক্তি একসঙ্গে রাজপথে নেমেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই ঐক্যে ফাটলের ইঙ্গিত দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
ঘটনার তদন্তে কী উঠে আসে এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। তবে এই ঘটনা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।