নেপালে প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের সরকার ভারত-নেপাল সীমান্তে কাস্টমস ডিউটি বা শুল্ক কঠোরভাবে চালু করায় বিক্ষোভ বাড়ছে। ১০০ নেপালি রুপির বেশি দামের জিনিসে কর, চিপস বাজেয়াপ্ত করা, বীরগঞ্জ-কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভের জেরে সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক বোঝা বাড়ছে।
ভারত-নেপাল সীমান্ত বরাবরই দুই দেশের মানুষের সহজ যাতায়াতের প্রতীক। কিন্তু এখন সেই সীমান্তই রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। নেপালে প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের সরকার শুল্ক আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সীমান্ত বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনে।
27
কেন ১০০ টাকার নিয়ম নিয়ে এত হট্টগোল?
সরকার ভারত থেকে আসা ১০০ নেপালি রুপির (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬৩ টাকা) বেশি মূল্যের পণ্যের ওপর ৫% থেকে ৮০% পর্যন্ত কাস্টমস ডিউটি চাপিয়েছে। এই নিয়ম নতুন নয়, কিন্তু এখন তা কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনই বিতর্কের মূল কারণ। সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ বছরের পর বছর ধরে ভারতের বাজারের ওপর নির্ভরশীল—মুদিখানা, ওষুধ, পোশাক, বিয়ের জিনিসপত্র এমনকি চাষের সরঞ্জামের জন্যও। হঠাৎ এই কড়াকড়িতে তাদের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে।
37
“চিপসও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে” - যখন गुस्सा রাস্তায় নামল
নেপালগঞ্জ ও বীরগঞ্জের মতো সীমান্তবর্তী শহরগুলিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। সাধারণ মানুষ দেখে, আলুর চিপসের প্যাকেটের মতো ছোটখাটো জিনিসও সীমান্তে আটকানো হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে এক মহিলা নেপাল পুলিশের সঙ্গে তর্ক করছেন। তিনি তার সন্তানদের জন্য কেনা চিপসের প্যাকেট ফেরত চাইছিলেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল, যদি নেপালের দোকানে ভারতীয় জিনিস খোলাখুলি বিক্রি হতে পারে, তবে সীমান্তে সাধারণ মানুষকে কেন আটকানো হচ্ছে? এই ঘটনাটিই এখন সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে বাড়তে থাকা অসন্তোষের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বিক্ষোভ শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনৈতিক দল এবং স্থানীয় সংগঠনগুলি এই পরিস্থিতিকে ‘অঘোষিত অবরোধ’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত ১৯৫০ সালের ভারত-নেপাল মৈত্রী চুক্তির ভাবনার বিরোধী, যা দুই দেশের মধ্যে অবাধ যাতায়াতের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি শাসক জোটের কিছু নেতাও এই নীতিকে অবাস্তব বলেছেন, বিশেষ করে যখন মুদ্রাস্ফীতি আগে থেকেই চাপ সৃষ্টি করছে।
57
সীমান্ত বাণিজ্য থেকে রোজগার পর্যন্ত প্রভাব
ভারত-নেপাল সীমান্তে ছোট ব্যবসায়ী, অটোচালক এবং স্থানীয় শ্রমিকদের জীবিকা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাজারগুলিতে ভিড় কমতে শুরু করেছে এবং ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উত্তেজনা বাড়লে বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক থাকবে না, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংবেদনশীলতাও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
67
সমঝোতা নাকি আরও সংঘাত?
সরকার বলছে, অবৈধ আমদানি ও রাজস্ব ক্ষতি রুখতে এই পদক্ষেপ জরুরি। কিন্তু সাধারণ মানুষ এটিকে তাদের জীবনের ওপর সরাসরি আক্রমণ বলে মনে করছে। পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় বিক্ষোভ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আপাতত, একটি সাধারণ চিপসের প্যাকেটই এই বড় প্রশ্নের প্রতীক হয়ে উঠেছে—নীতি এবং জনগণের চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য কি এখনও সম্ভব?
77
চাপের মুখে এক সূক্ষ্ম সম্পর্ক
ঐতিহাসিকভাবে ভারত ও নেপালের মধ্যে একটি খোলা সীমান্ত রয়েছে, যা কয়েক দশক ধরে বাণিজ্য, শ্রমিকদের যাতায়াত এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানকে উৎসাহিত করেছে। বর্তমান অস্থিরতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে যে, এই সম্পর্ক নীতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কতটা সংবেদনশীল। বিশেষ করে যখন এই পরিবর্তনগুলি মানুষের দৈনন্দিন জীবিকা এবং অর্থনীতিকে সরাসরি প্রভাবিত করে। একদিকে রাজস্ব সংস্কারের চাপ, অন্যদিকে জনগণের विरोध—দুইয়ের মাঝে পরিস্থিতি টালমাটাল।