প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিজের 'ভালো বন্ধু' হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি শীঘ্রই একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছবে। ভারত-সহ ৫৩টি দেশের পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার কথা ট্রাম্প প্রশাসন জানানোর কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর এই আশ্বাসবাণী এল।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিজের 'ভালো বন্ধু' হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি শীঘ্রই একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছবে। জোরপূর্বক শ্রম বা বাধ্যতামূলক শ্রম রোধে ব্যর্থতার অভিযোগে ভারত-সহ ৫৩টি দেশের পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার কথা ট্রাম্প প্রশাসন জানানোর কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর এই আশ্বাসবাণী এল। হোয়াইট হাউসে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, "আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছব কারণ আমি আপনাদের প্রধানমন্ত্রীকে খুব পছন্দ করি। তিনি আমার ভালো বন্ধু এবং আমাদের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে।"

বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ক আলোচনার এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে, ভারত বছরের পর বছর ধরে মার্কিন নীতির সুযোগ নিয়েছে এবং অত্যধিক শুল্ক আরোপ করেছে। আর তাঁর নীতিগুলো সেই পরিস্থিতিই উল্টে দিচ্ছে। তিনি বলেন, "বছরের পর বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুযোগ নিয়েছে ভারত। তারা আমাদের উপর বিশাল অঙ্কের শুল্ক চাপিয়েছে অথচ বিনিময়ে কিছুই দেয়নি। এখন পরিস্থিতি ঠিক উল্টো এবং ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের মাধ্যমে আমরা প্রচুর অর্থ আয় করছি।"
ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকি
অন্তর্বর্তীকালীন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য এই সপ্তাহের শুরুর দিকে আমেরিকার একটি প্রতিনিধিদল ভারত সফরে এসেছিল। বাণিজ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, বাণিজ্য আলোচনাটি ছিল সহযোগিতামূলক ও বাস্তবসম্মত মনোভাবপূর্ণ। উভয় পক্ষই এমন একটি পারস্পরিক লাভজনক চুক্তির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের প্রধান কয়েকটি অর্থনীতির দেশের উপর অতিরিক্ত ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের নতুন ঘোষণা করেছে। তাদের দাবি, তদন্তে দেখা গেছে যে ৫৪টি দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যগুলো সম্ভবত জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়েছে। এই তালিকার মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, চিন, ভারত, ইজরায়েল, জাপান, কাতার ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো।
হার্লে-ডেভিডসন প্রসঙ্গে ট্রাম্প
ট্রাম্প হার্লে-ডেভিডসন মোটরসাইকেলের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, উচ্চ শুল্কের কারণে ভারতের বাজারে এই বিখ্যাত মার্কিন বাইক প্রস্তুতকারক কোম্পানির পক্ষে দু-চাকার গাড়ি বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। ট্রাম্প বলেন, "অতীতে তারা হার্লে-ডেভিডসনকে তাদের মোটরসাইকেল বিক্রি করতে দিত না। তারা ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করত, যার ফলে হার্লে-ডেভিডসনকে বাজার থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তারা ভারতে গিয়ে নিজস্ব কারখানা স্থাপন করতে বাধ্য হয়। এমনটা ঘটা দুর্ভাগ্যজনক, তবে এমনটা ঘটে থাকে। এসব ঘটনা আমার সময়ের আগের।" তিনি এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির তুলনা করে বলেন যে, মার্কিন বাজারে ভারতীয় মোটরসাইকেল ব্র্যান্ডগুলোকে এ ধরনের কোনও বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি।
ট্রাম্প বলেন, "তারা এখানেও মোটরসাইকেল বিক্রি করেছে। জানেন আমরা তাদের উপর কত শুল্ক আরোপ করেছিলাম? কিছুই না। আর এখন পরিস্থিতি ঠিক উল্টো। ভারতের থেকে আমরা প্রচুর অর্থ আয় করছি।"
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি
৭ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প ও মোদীর মধ্যে টেলিফোনে আলোচনার পর ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির (বিটিএ) বা অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপের রূপরেখা চূড়ান্ত করে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে। সেই রূপরেখা অনুযায়ী, ভারতের উপর আরোপিত শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করতে সম্মত হয়েছিল আমেরিকা। রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের উপর যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল এবং চুক্তির আওতায় অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার কথা ছিল।
তবে ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের 'পারস্পরিক শুল্ক' (reciprocal tariffs) আরোপের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রায় দেয়। এই শুল্কগুলো ১৯৭৭ সালের 'ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট' (IEEPA)-এর অধীনে আরোপ করা হয়েছিল। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ১৫০ দিনের জন্য সব দেশের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেন। সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং পরবর্তী ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিটি নিয়ে পুনরায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
