Pakistani PM Shehbaz Sharif: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে অভ্যন্তরণী মন্ত্রী মহসিন নকভির (Interior Minister Mohsin Naqvi) দ্বন্দ্ব নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি নকভি এমন এক মন্তব্য করেছেন, যার মাধ্যমে মনে হয়েছে, পুরো সময় ক্ষমতায় না-ও থাকতে পারেন শরিফ। তবে এই মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন নকভি।

DID YOU
KNOW
?
ক্ষমতাসীন নকভি
পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি অত্যন্ত প্রভাবশালী।

Pakistan News: পাকিস্তানের বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা কার্যত ধসে পড়েছে বলে মন্তব্য করলেও, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ (Prime Minister Shehbaz Sharif) পুরো পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পন্ন করবেন বলে দাবি করলেন অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী মহসিন নকভি (Interior Minister Mohsin Naqvi)। গত সপ্তাহে পাকিস্তান ইকনমিক সামিটে (Pakistan Economic Summit) প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে নকভির মন্তব্য পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের (Army Chief Asim Munir) ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নকভির বক্তব্যের পর শরিফ সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। একইসঙ্গে পাকিস্তানের ক্ষমতার কাঠামোর অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনও সামনে আসে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় নকভি বলেন, 'সরকারের ভবিষ্যৎ হল পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করা। শেহবাজ শরিফ পাঁচ বছরই প্রধানমন্ত্রী থাকবেন এবং তাঁর সাংবিধানিক মেয়াদ সম্পন্ন করবেন।'

পাকিস্তান সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা

নকভি পাকিস্তান সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার কথা বললেও, পাকিস্তানের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এ ধরনের আশ্বাসকে অনেকেই সতর্কতার সঙ্গে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন। কারণ, ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা পাওয়ার পর থেকে পাকিস্তানের কোনও প্রধানমন্ত্রীই পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পন্ন করতে পারেননি। সামরিক অভ্যুত্থান, হত্যাকাণ্ড কিংবা পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার ঘটনায় বারবার মাঝপথেই শেষ হয়েছে অসামরিক সরকারের মেয়াদ। পাকিস্তানের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (Pakistan Cricket Board) চেয়ারম্যানও নকভি। তাঁর মন্তব্যে বিতর্ক ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান ইকনমিক সামিটে তিনি মন্তব্য করেন, দেশের শাসনব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন প্রদেশ গঠনের প্রয়োজন রয়েছে। এর কয়েক দিন পর তিনি আরও দাবি করেন, পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্নীতির কেলেঙ্কারি উদ্ঘাটিত হয়েছে। যেখানে বিচারক, আমলা ও রাজনীতিকদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। এসব বক্তব্যের পর পাকিস্তানে বড় ধরনের রাজনৈতিক রদবদলের জল্পনা আরও জোরালো হয়। যদিও দেশটির পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৯ সালে।

শরিফের সঙ্গে নকভির সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা

নকভির মন্তব্য শরিফের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য না হয়েও তিনি বর্তমানে পাকিস্তান সরকারের অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ (Defence minister Khawaja Asif) পর্যন্ত মন্তব্য করেন, নকভি এমন এক ক্ষমতাকেন্দ্র, যিনি কার্যত কারও কাছে জবাবদিহি করেন না। বৃহস্পতিবারও নকভি বলেন, পাকিস্তানের শাসন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, এটি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগপত্র নয়। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, তাঁর বক্তব্য বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নয়, বরং পাকিস্তানের ৮০ বছরের পুরনো প্রশাসনিক কাঠামোর সমালোচনা। নকভির ভাষায়, গত ৮০ বছর ধরে যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা চলে আসছে, সেটিই ভেঙে পড়েছে। যদি এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকত, তাহলে পাকিস্তান অনেক আগেই নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যেত। তিনি আরও বলেন, তিনিও একই প্রশাসনের অংশ। তাই তাঁর বক্তব্যকে বর্তমান সরকারের সমালোচনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।