
চিনের সদ্য লাগু হওয়া 'জাতিগত ঐক্য ও প্রগতি প্রচার আইন' (Ethnic Unity and Progress Promotion Law) নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাইওয়ানের এক নিরাপত্তা আধিকারিক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই আইনের মাধ্যমে বেইজিং বিশ্বজুড়ে তাদের সমালোচকদের ওপর দমনপীড়ন চালাতে পারে। দ্য তাইপেই টাইমস এই খবর জানিয়েছে।
দ্য তাইপেই টাইমস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই আইন বলছে, চিনের সব নাগরিককে দেশের ঐক্য রক্ষা করতে হবে। বিশ্বের যে কোনও জায়গায় থাকা কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা যদি 'জাতিগত ঐক্য' নষ্ট করে বা বিচ্ছিন্নতাবাদে উস্কানি দেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। কিন্তু আইনে স্পষ্ট করে বলা নেই কোন কাজগুলোকে এই ধরনের অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, বিদেশে থাকা ভিন্নমতাবলম্বীদের নিশানা করতে এই আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই তাইওয়ানি আধিকারিক জানিয়েছেন, বেইজিং আগেও বিদেশে থাকা সমালোচকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, চিন আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে বিভিন্ন দেশ থেকে ১০,০০০-এরও বেশি ভিন্নমতাবলম্বীকে অপহরণ বা জোর করে দেশে ফিরিয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশে বিতর্কিত 'বিদেশি পুলিশ স্টেশন'-এর মাধ্যমে চিন তাদের নজরদারি আরও বাড়াতে পারে।
ওই আধিকারিক বেইজিং-এর দমনপীড়নের পাঁচটি প্রধান পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশে করা মন্তব্য বা রাজনৈতিক কার্যকলাপের ওপর চিনের আইন প্রয়োগ করা, বিদেশে থাকা 'পুলিশ নেটওয়ার্ক' ব্যবহার করে সমালোচকদের ওপর নজরদারি ও ভয় দেখানো এবং চিনে থাকা ভিন্নমতাবলম্বীদের পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। যেমন তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ করা বা ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে দেওয়া।
আরেকটি কৌশল হল, ইন্টারপোলের 'রেড নোটিস'-এর অপব্যবহার করে রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ আনা। উদাহরণ হিসেবে তিনি উইঘুর অ্যাক্টিভিস্ট ইদ্রিস হাসানের কথা বলেছেন, যাঁকে চিনের প্রত্যর্পণের অনুরোধে মরক্কোতে তিন বছরের বেশি আটক থাকতে হয়েছিল। দ্য তাইপেই টাইমস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বেইজিং গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকে যারা সমর্থন, অর্থায়ন বা সেই বিষয়ে খবর করে, তাদের 'চরমপন্থী' হিসেবে দেগে দেয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।