
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (স্থানীয় সময়) ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি ইরানের সঙ্গে চলা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর নাও বাড়াতে পারেন। এর ফলে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যদি কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে পশ্চিম এশিয়ায় ফের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে কোনো চুক্তি হবে কি না, তার ওপরই সবটা নির্ভর করছে। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতির চুক্তি না হলেও ইরানের বন্দরগুলিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ চলতে থাকবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, "হয়তো আমি এর মেয়াদ বাড়াব না। তবে অবরোধ চলবে, কিন্তু যুদ্ধবিরতি হয়তো আর বাড়াব না। ফলে অবরোধ তো থাকছেই, আর দুর্ভাগ্যবশত আমাদের আবার বোমা ফেলা শুরু করতে হবে।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, "হয়তো আমি এর মেয়াদ বাড়াব না। তবে অবরোধ চলবে, কিন্তু যুদ্ধবিরতি হয়তো আর বাড়াব না। ফলে অবরোধ তো থাকছেই, আর দুর্ভাগ্যবশত আমাদের আবার বোমা ফেলা শুরু করতে হবে।"
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ বিরতি নিয়ে মন্তব্য়ের পরই রীতিমত অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ইরান। ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ জানিয়েছেন, হরমুজ তারা ফের বন্ধ করতে পারেন। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি লেবানন আর ইজরায়েলে যে'কদিন যুদ্ধ বিরতি চলবে সেই দিনগুলিতেই খোলা থাকবে হরমুজ। ট্রাম্পের পাল্টা তোপ দেগেছে ইরানও।
আগামী ২২ এপ্রিল, বুধবার, দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তার আগে কোনো চুক্তি না হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না, এই প্রশ্নের জবাবেই ট্রাম্প একথা বলেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে মনে করা হচ্ছে আমেরিকা নিজেদের অবস্থান আরও কড়া করছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে অবরোধ চলবেই, কিন্তু যুদ্ধবিরতি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
এদিকে, সিএনএন ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য সোমবার ইসলামাবাদে ইরানি এবং আমেরিকান আলোচকদের মধ্যে নতুন করে বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে লেবানন আর ইজরায়েলের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকতে পারেন।
সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, দুই দেশের প্রতিনিধি দল রবিবার পাকিস্তানের রাজধানীতে পৌঁছাতে পারে। আগের আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছিল। তাই এবারের বৈঠকের লক্ষ্য দুই পক্ষের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমাধানের পথ তৈরি করা।
গত ১১ থেকে ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনা (Islamabad Peace Talks) ছিল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত থামানোর একটি ঐতিহাসিক কিন্তু অসফল কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনায় ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রথমবার দুই দেশ উচ্চ-পর্যায়ে মুখোমুখি বসেছিল।