
খাদি শুধু একটি ফ্যাব্রিক নয়। এটি ভারতের পরিচয়। স্বাধীনতা সংগ্রামে মহাত্মা গান্ধী (Mahatma Gandhi) একে স্বদেশী আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে স্বাধীনতার পোশাক বলেছিলেন। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তাদের পণ্য বয়কট করা এবং খাদি গ্রহণ করা ছিল আত্মনির্ভরতার প্রতীক। চলুন জেনে নেওয়া যাক, খাদি কীভাবে তৈরি হয়, এর কত প্রকারভেদ রয়েছে এবং খাদি পরার উপকারিতা কী কী।
খাদি কীভাবে তৈরি করা হয়?
খাদি ফ্যাব্রিক তৈরি করতে কোনো ধরনের মেশিন ব্যবহার করা হয় না। এটি দুটি ধাপে তৈরি করা হয়। প্রথমে তুলা, রেশম এবং উল চরকার সাহায্যে সুতোয় কাটা হয়। এরপর সেই সুতো হাতে তাঁতে বোনা হয়। এই কারণেই খাদির টেক্সচার সম্পূর্ণ আলাদা হয়।
খাদি কাপড় কত প্রকারের হয়?
আপনিও যদি খাদি পরতে ভালোবাসেন, তাহলে এর প্রকারভেদ সম্পর্কেও জেনে রাখা উচিত।
১) কটন খাদি
ভারতে কটন খাদি সবচেয়ে জনপ্রিয়। এটি হালকা হওয়ার পাশাপাশি খুব আরামদায়ক। পোশাকের সাথে আসবাবপত্রের কভার তৈরিতেও এটি ব্যবহৃত হয়। এই ফ্যাব্রিকটি গরমকালে বেশি পছন্দ করা হয়।
২) খাদি সিল্ক
মালবেরি, তসরি, চান্দেরির মতো রেশমি সুতোয় তৈরি খাদি সিল্ক তার বিশেষ ঔজ্জ্বল্যের জন্য পরিচিত। এটি কিছুটা দামি এবং বিয়ে বা ভারী পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
৩) খাদি উল
শীতকালে খাদি উলের চাহিদা বেড়ে যায়। এটি উল থেকে তৈরি করা হয়। ঠান্ডা থেকে বাঁচতে এটি উষ্ণ এবং প্রাকৃতিক উত্তাপ প্রদান করে। বিশ্বজুড়ে পশমিনা (কাশ্মীরি উলের খাদি) সবচেয়ে বিখ্যাত।
৪) খাদি মসলিন
খাদি মসলিনের ইতিহাস রাজা-মহারাজাদের সঙ্গে জড়িত। এটি খুব হালকা, নরম এবং স্বচ্ছ হয়।
খাদি পরার উপকারিতা কী?
খাদি গরম এবং শীত উভয় ঋতুর জন্যই উপযুক্ত। এটি প্রচণ্ড গরমে শীতলতা দেয় এবং কনকনে শীতে উষ্ণতা প্রদান করে।
খাদির সুতোর বুনন আলগা হয়, যার ফলে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে। এতে ঘাম শুকিয়ে যায় এবং ত্বক আরাম পায়।
খাদি প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি করা হয়। এই কারণে এটি ত্বকের কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না।
খাদির বিশেষত্ব হলো এর স্থায়িত্ব। এটি সহজে নষ্ট হয় না এবং বছরের পর বছর চলে। যত ধোয়া হয়, এটি ততই নরম হতে থাকে।
খাদি তৈরিতে কোনো ধরনের মেশিন বা বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয় না। এই কারণে এটি দূষণমুক্ত।
Fashion Beauty (ফ্যাশন সৌন্দর্য ): Latest fashion news, beauty coverage, celebrity Fashion style, fashion week updates in Bangla. Watch Fashion videos tips on Asianet Bangla News