শীতে গর্ভবতী মহিলারা মেনে চলুন এই বিশেষ টিপস, জেনে নিন কোন উপায় গর্ভস্থ বাচ্চা থাকবে সুস্থ

Published : Jan 06, 2026, 12:38 PM IST
Pregnancy

সংক্ষিপ্ত

শীতকালে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য সঠিক পুষ্টি অত্যন্ত জরুরি। এই সময়ে সবুজ শাকসবজি, শুকনো ফল, এবং গরম স্যুপের মতো খাবার শরীরকে শক্তি ও উষ্ণতা জোগায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। 

শীতকাল গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বিশেষ যত্নের দাবি রাখে। এই সময়ে, ঠান্ডা আবহাওয়া, সংক্রমণ এবং ক্লান্তি গর্ভবতী মহিলা এবং গর্ভের শিশু উভয়কেই প্রভাবিত করতে পারে। তাই, সঠিক পুষ্টি অত্যন্ত জরুরি হয়ে ওঠে। পুষ্টিগুণে ভরপুর ডায়েট শুধু মায়ের স্বাস্থ্যই উন্নত করে না, বরং শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শীতে শরীরের বেশি শক্তি এবং উষ্ণতা প্রয়োজন হয়, তাই ডায়েটে সঠিক খাবার অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

গর্ভবতী মহিলাদের শীতে এমন খাবার খাওয়া উচিত যা শরীরকে গরম রাখে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। সঠিক ডায়েট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে এবং দুর্বলতা প্রতিরোধ করে। সামান্য সতর্কতা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস এই মৌসুমকে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর করে তুলতে পারে। আসুন জেনে নেওয়া যাক, গর্ভবতী মহিলাদের শীতে তাদের ডায়েটে কোন খাবারগুলি অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করা উচিত এবং কোন খাবারগুলি এড়িয়ে চলা উচিত।

গর্ভবতী মহিলাদের ডায়েটে কোন খাবারগুলি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত?

আরএমএল হাসপাতালের অবস্টেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনোকোলজি বিভাগের ডঃ সালোনি চাড্ডা বলেন যে, গর্ভবতী মহিলাদের শীতে পালং শাক, মেথি এবং সর্ষের শাকের মতো সবুজ শাকসবজি অবশ্যই খাওয়া উচিত, কারণ এগুলিতে আয়রন এবং ফাইবার প্রচুর পরিমাণে থাকে। বাদাম, আখরোট এবং কিশমিশের মতো শুকনো ফল শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।

দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্য ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস, যা শিশুর হাড়ের বিকাশের জন্য জরুরি। কমলালেবু, পেয়ারা এবং আপেলের মতো ফল ভিটামিন সি সরবরাহ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। ডাল, ছোলা এবং রাজমা প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে। এছাড়াও, গরম স্যুপ এবং ডালিয়া শরীরকে গরম রাখতে সাহায্য করে।

গর্ভবতী মহিলাদের কোন খাবারগুলি এড়িয়ে চলা উচিত?

গর্ভাবস্থায়, মা এবং শিশু উভয়ের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য কিছু খাবার এড়িয়ে চলা খুব জরুরি। অতিরিক্ত ভাজাভুজি, মশলাদার এবং জাঙ্ক ফুড খাওয়া থেকে বিরত থাকুন, কারণ এতে অ্যাসিডিটি এবং পেটের সমস্যা হতে পারে। খুব ঠান্ডা খাবার এবং বরফযুক্ত পানীয় ক্ষতিকারক হতে পারে। কাঁচা বা আধসিদ্ধ মাংস, ডিম এবং মাছ খাওয়া এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। চা এবং কফির মতো ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের কম খান। প্যাকেটজাত এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে দূরে থাকুন। ধূমপান, অ্যালকোহল এবং অন্য কোনও মাদকদ্রব্য থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বা ভেষজ সম্পূরক গ্রহণ করবেন না।

গর্ভাবস্থায় যত্ন নেওয়াও জরুরি

শুধু খাদ্যাভ্যাসই নয়, গর্ভাবস্থায় সঠিক যত্নও প্রয়োজন। শীতে নিজেকে গরম রাখুন এবং ঠান্ডা বাতাস থেকে বাঁচুন। পর্যাপ্ত ঘুম নিন এবং হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করুন। নিয়মিত ডাক্তারের চেক-আপ খুব জরুরি। কম জল পানের ভুল করবেন না, কারণ শীতেও শরীরের হাইড্রেশন প্রয়োজন। ভালো স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখুন এবং কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

 

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

হার্টের অসুখ? সাবধান! ঘুম থেকে ওঠার পর কিছু কৌশল জেনে রাখুন, না হলে বাড়তে পারে মৃত্যুর ঝুঁকি
কনকনে শীতে একটু মশলাদার চা খেতে চান? তাহলে বানান এইভাবে, রইলো তার কৌশল