
শীতকালে জল কম খাওয়ার কারণে অনেক সময় শরীর গরম হয়ে যায়। দেখা দেয় হজমের সমস্যা, গ্যাস-অম্বলের সমস্যা। পেট ভাল রাখতে কী খাবেন এই সময়ে? শীতে জল কম খাওয়া ও ভারী খাবারের কারণে হজমের সমস্যা হলে আদা চা, গরম জলের সাথে লেবু ও মধু এবং পুদিনা বা তুলসী চা পান করতে পারেন। যা হজম বাড়ায়, পেট ফাঁপা কমায় ও শরীরকে সতেজ রাখে; এছাড়া উষ্ণ জল পান করা জরুরি, কারণ ঠান্ডা জল হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে।
• উপকারিতা: আদা হজমশক্তি বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকরী। এটি পেট ফাঁপা, গ্যাস, বমিভাব এবং বদহজম কমাতে সাহায্য করে। এটি একটি প্রাকৃতিক ভেষজ যা পাচনতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে।
• তৈরির পদ্ধতি: এক ইঞ্চি আদা থেঁতো করে গরম জলে ফুটিয়ে, ছেঁকে নিয়ে পান করুন। প্রয়োজনে সামান্য মধু মেশাতে পারেন।
• উপকারিতা: সকালে উষ্ণ জল পান করলে শরীর থেকে টক্সিন বের হয়, হজম প্রক্রিয়া সচল থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে। লেবুর ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে।
• তৈরির পদ্ধতি: এক গ্লাস উষ্ণ গরম জলে অর্ধেকটা লেবুর রস ও এক চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন।
• উপকারিতা: তুলসী ও পুদিনা হজমতন্ত্রের জন্য খুবই উপকারী। এরা পেট ঠান্ডা রাখে, গ্যাস কমাতে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে। এটি মানসিক চাপ কমাতেও সহায়ক।
• তৈরির পদ্ধতি: কয়েকটি তাজা তুলসী পাতা বা পুদিনা পাতা গরম জলে ফুটিয়ে নিন। ছেঁকে নিয়ে পান করুন।
মাচা চা খাওয়ার চল এখন জাপান, তাইওয়ান ছাড়িয়ে বিশ্বের বহু দেশেই শুরু হয়েছে। একে শুধু চা না বলে তার চেয়ে বেশি কিছু বলা যায়। সাধারণ চা, কফির তুলনায় মাচায় ক্যাফিনের মাত্রা কম থাকে। এই চা খেলে অম্বলের ঝুঁকিও কমে। গবেষণা বলছে, জাপানের এই চায়ে ক্যাটেসিন নামের এক ফ্ল্যাভনয়েড রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। এই ফ্ল্যাভনয়েড আদতে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট আবার প্রদাহনাশক উপাদান। ক্যাটেসিন লিভারের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে। এটি হার্ট-বান্ধবও।
* কম জল: ঠান্ডায় তেষ্টা কম পাওয়ায় জল কম খাওয়া হয়, যা হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে।
* শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা: শীতকালে কম চলাফেরা করলে হজমশক্তি কমে যায়।
* ভারী খাবার: এই সময়ে ভাজাভুজি ও ভারী খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে, যা হজম করা কঠিন।
* ঠান্ডা জলের বদলে সবসময় উষ্ণ বা গরম জল পান করুন, কারণ ঠান্ডা জল হজম এনজাইমের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।
* হজম ভালো রাখতে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন ফল ও শাকসবজি খান।