শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশে অভিভাবকেরা সাধারণত ছোটদের রাস্তার ধারের খাবার খাওয়ার অভ্যাস, ঘন ঘন সর্দি-কাশি বা সংক্রমণে ভোগা, ওজন বেড়ে যাওয়াগুলি চিহ্নিত করেন। তবে খুব কম মানুষই আছেন, যাঁরা শিশুদের অত্যধিক স্ক্রিন টাইমের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

শিশুদের ক্ষেত্রে হৃদ্‌পিণ্ডের সমস্যা দু'প্রকারের হয়ে থাকে। প্রথমটি হল জন্মগত। আর দ্বিতীয়টি জন্মের পরে হওয়া সমস্যা। জন্মগত বা সায়ানোটিক সমস্যায় শুরু থেকেই চিকিৎসা হওয়া উচিত। আর নন সায়ানোটিকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিশুর ওজন বাড়ছে না। খাওয়া কমে যাচ্ছে। খাওয়ার সময় শিশু ঘেমে যাচ্ছে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে।

কমবেশি সব শিশুই বর্তমানে যে অভ্যাসটি নিয়মিত করে এবং অজান্তেই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, তা হলো অতিরিক্ত সময় ধরে বসে থাকা বা স্ক্রিন টাইম (মোবাইল/টিভি/কম্পিউটার দেখা)। এই শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, স্থূলতা, জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা এবং কম ঘুম—এই বিষয়গুলো শিশুদের হার্টের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করে, যা ভবিষ্যতে গুরুতর হার্টের সমস্যা ডেকে আনতে পারে ।

*বিস্তারিত আলোচনা*:

• অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম: দিনের অনেকটা সময় মোবাইল বা টিভির সামনে বসে কাটানো শিশুদের শারীরিক কার্যকলাপ কমিয়ে দেয়। চিকিৎসকদের মতে, এটি শিশুদের হার্টের স্বাস্থ্যর জন্য ক্ষতিকর এবং ভবিষ্যতে কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি বাড়ায় ।

• ব্যায়ামের অভাব: দৌড়ঝাঁপ বা খেলাধুলার অভাব শিশুদের পেশী ও হার্টকে দুর্বল করে তোলে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অনুযায়ী, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা হৃদ্‌রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ।

• অস্বাস্থ্যকর খাবার ও স্থূলতা: অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড বা ফাস্ট ফুড খাওয়ার প্রবণতা শিশুদের স্থূলতা (Obesity) বাড়িয়ে দেয়, যা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

• ঘুমের অভাব: কম ঘুম বা অনিয়মিত ঘুমের কারণে শিশুদের হার্টের পেশীতে চাপ সৃষ্টি হয়।

• পারিবারিক ইতিহাস ও জীবনযাত্রা: জেনেটিক কারণ ছাড়াও আজকের দিনের জীবনযাত্রা (যেমন- ধূমপায়ী অভিভাবকদের সামনে থাকা) শিশুদের হার্টের অসুখের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

প্রতিকার:শিশুদের এই ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে প্রতিদিন অন্তত ৬০ মিনিট মাঝারি থেকে ভারী শারীরিক ব্যায়াম বা খেলাধুলা করা প্রয়োজন । খাবারের তালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখা এবং স্ক্রিন টাইম কমিয়ে আউটডোর গেমসে উৎসাহ দেওয়া খুবই জরুরি।