
এই সময়ের একটা বড় সমস্য়াই হল সেন্ট্রাল ওবেসিটি। এই মোটা হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না ছোটরাও। বলতে গেলে ছোট-বড় নির্বিশেষে এখন স্থূলতার শিকার হয়ে পড়ছে। মনে রাখবেন, ভুঁড়ি বাড়লে যে শুধু আপনাকে দেখতে বেঢপ লাগে তা-ই নয়। সেইসঙ্গে শরীরেও বাসা বাঁধবে হাজারটা রোগ। হার্ট আর আগের মতো স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারবে না। হাঁটু-কোমরের ওপর চাপ বেশি পড়ে বলে সেগুলোও একটু-একটু করে ব্য়থার বিদ্রোহ শুরু করবে। যদি কাউর সুগারের ট্রেট থাকে বা বর্ডার লাইনে থাকে সুগার, তাহলে তার সুগার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। কাজেও ক্লান্তি এসে যেতে পারে এই বেঢপ ভুড়ি থেকে।
এখন প্রশ্ন হল, বোঝা তো গেল ভুড়ি থেকে কী ধরনের বিপত্তি দেখা দিতে পারে, কিন্তু এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় কী। তাহলে কি খাওয়া দাওয়া সব বন্ধ করে দিতে হবে।
উত্তরে বলি, মোটেও তা নয়। খাওয়াদাওয়া ঠিকমতো না-করলে তো অন্য় সমস্য়া দেখা দেবে শরীরে। তখন হিতে বিপরীত হয়ে যাবে। কথা হল একটাই, খান কিন্তু একটু ভেবেচিন্তে খান।
প্রথমেই বলি, খাওয়াদাওয়ার একটা ভারি মজার নিয়ম আছে। তাকে মেনে চলুন। ব্রেকফাস্ট খান রাজার মতো, লাঞ্চ করুন মধ্য়বিত্তের মতো আর ডিনার করুন ভিখিরির মতো। দেখবেন, এই নিয়মটি মেনে চললেই আপনার ওজন ঠিক থাকবে। পারলে সকালে উঠে ঈষদষ্ণু গরমজলে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খান। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। রোজকার ডায়েটের মধ্য়ে টকদই রাখুন। ওজন ঠিক রাখতে ম্য়াজিকের মতো কাজ করে এই টকদই। আর, একসঙ্গে বেশি না-খেয়ে, অল্প করে দিনে বেশ কয়েকবার খান। দিন যত এগিয়ে চলবে, খাওয়ার পরিমাণও তত কমান। রাতে আটটার মধ্য়ে ডিনার করে ফেলার চেষ্টা করুন। আর হ্য়াঁ, দুপুরেই হোক কি রাতে, খাওয়ার দু-ঘণ্টার মধ্য়ে ঘুমোতে যাবেন না।
এরই সঙ্গে কতগুলো খাবার থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। যেমন মিষ্টি খাওয়া একেবারেই কমিয়ে ফেলতে হবে। অনেকে আবার রাতে খাওয়ার পর একটা করে মিষ্টি খান রোজ। ওই কাজটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে আজই। একান্তই যদি মিষ্টি খেতে হয় মাঝেমধ্য়ে, তাহলে দিনের বেলায় খান বা সন্ধের মধ্য়ে। কারণ মনে রাখবেন, যত রাত হবে, তত আমাদের ক্য়ালোরি কম খরচ হবে। কারণ, আমাদের শারীরিক পরিশ্রম কমবে। এছাড়া, কোলাজাতীয় ঠান্ডা পানীয় যতদূর সম্ভব বাদ দিতে হবে। সাংঘাতিক পরিমাণ চিনি থাকে তাতে। ওজন বাড়াতে চিনির কোনও বিকল্প নেই। সেইসঙ্গে বাদ দিতে হবে পেস্ট্রি, চকোলেট আর বিভিন্ন রকমের ফাস্টফুড। আর নিয়ম করে একটু হেঁটে নেবেন। যখনই সম্ভব হবে। দেখবেন, ভুঁড়ি আপনাকে বেঢপ করে দিতে পারবে না কিছুতেই।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News