
জাম প্রধানত গ্রীষ্মকালীন ফল। টক মিষ্টি সুস্বাদু এই ফলটি বেশ জনপ্রিয়। কবিরাজী চিকিৎসায় এর কিছু ব্যবহার আছে। বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ, ভারতবর্ষ, ইন্দোনেশিয়া এবং চীন-এ জামের ব্যবহার হয়ে আসছে। জামের বীজ দিয়ে নানান রোগের আয়ুর্বেদীক চিকিৎসা করা হয়। চৈনিক চিকিৎসাতেও এর ব্যবহার আছে। হজমের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, দাঁতের সমস্যা-সহ বিভিন্ন রোগে জামের বীজ, ছাল ও পাতা ব্যবহৃত হয়। জাম থেকে মদ ও ভিনিগার তৈরি করা যায়। জামে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি রয়েছে।
আরও পড়ুন- মরশুম বদলে বাড়ছে জ্বরের প্রকোপ, সুস্থ থাকুন সহজ উপায়ে
জানলে অবাক হবেন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে জামের বীজ। জাম ফলের মত গুরুত্বপূর্ণ এই ফলের বীজও। জাম ও তার বীজে রয়েছে জাম্বোলাইন ও জাম্বোসাইন নামক পদার্থ যা রক্তে শর্করার পরিমান কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া জামের বীজে রয়েছে প্রোফাইল্যাকটিক ক্ষমতা যা হাইপারগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে। ফলে রোগীদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় জামের বীজ রাখা দরকার। আয়ুর্বেদশাস্ত্রের মতে, জাম রয়েছে অ্যাসট্রিনজেন্ট অ্যান্টি-ডিউরেটিক, যা ঘন ঘন মূত্রত্যাগ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া জামে রয়েছে হাইপোগ্লাইসেমিক গুণ আছে যা রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতেও সাহায্য করে, এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পূর্ণ যা ডায়াবেটিসে উপকারী। জাম ফল ও বীজ উভয়েই এই গুণগুলি রয়েছে। আয়ুর্বেদের ঔষুধি হিসেবে ডায়াবেটিস রোগে কীভাবে জামের বীজ ব্যবহার করবেন, জেনে নেওয়া যাক।
আরও পড়ুন- শরীর থেকে সৌন্দর্য, সবেতেই উপকারী নিমপাতা
জামের বীজে খুব ভালো করে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। এরপর এক সপ্তাহ রোদে খুব ভালো করে শুকিয়ে নিন। এরপর বীজের খোসা ছাড়িয়ে সবুজ অংশ বের করে নিন। সবুজ অংশগুলি ভেঙ্গে আবারও রোদে ৩ থেকে ৪ দিন শুকিয়ে নিন। এরপর মিক্সিতে খুব ভালো করে গুঁড়ো করে নিন। গুঁড়ো করার পর চালনিতে চেলে তার থেকে বড় দানাগুলো বেড় করে নিন। এরপর একটি এয়ারটাইট কন্টেনারে এই গুড়ো সংরক্ষণ করুন। এরপর প্রতিদিন সকালে খালি পেটে একগ্লাস জলে এক চা চামচ জামের বীজের গুঁড়ো মিশিয়ে রোজ সকালে খালি পেটে পান করুন। আয়ুর্বেদশাস্ত্র মতে খব সহজেই নিয়ন্ত্রণে থাকবে ডায়াবেটিস।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News