
মহাশিবরাত্রি (Maha Shivratri) উপলক্ষে উৎসবের আমেজে বাংলা (Maha Shivratri Celebtation in Bengal) থেকে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তর। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই দিনটিকে সরকারিভাবে ছুটির দিন ঘোষণা করেছে (Holiday on Maha Shivratri)। মহাশিবরাত্রি হিন্দু শৈব সম্প্রদায়ের কাছে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। সাধারণত ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয় এই দিনটি। ভক্তরা এই দিনে শিবলিঙ্গে গঙ্গাজল, দুধ, বেলপাতা ও ফুল দিয়ে পুজো করে থাকে। এমনকী ব্রতকথাও পাঠ করা হয় এই বিশেষ দিনে। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে মহা সাড়ম্বরে পালিত হয় শিবরাত্রি। বেলুড় (Maha Shivratri In Belur) থেকে শুরু করে বক্রেশ্বর (Maha Shivratri in Bakraswar), তারাপীঠ (Tarapith), তারকেশ্বর (Tarakeshwar), দক্ষিণেশ্বর (Dakhshineswar)-সর্বত্রই সাড়ম্বরে পালিত হয় শিবরাত্রি। বাংলার বিভিন্ন স্থানে এই বিশেষ দিনটি উপলক্ষে বসে মেলা। ডুয়ার্সের বুকে জয়ন্তীতে ভুটান পাহাড়ের উপরে থাকা বড় মহাকাল ও ছোট মহাকাল মন্দিরেও বসে বিশাল মেলার আয়োজন।
মহাশিবরাত্রিকে সবাই শুভেচ্ছা জানালেন অমিত শাহ , দুপুর ৩টা
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও এদিন সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে টুইট করেছেন। তিনি বলেন,'মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। দেবাদিদেব মহাদেবের কাছে সকলের কল্যাণ, দেশের উন্নতি এবং সমৃদ্ধি কামনা করি।'
মহাশিবরাত্রিকে সবাই শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়, ১ঃ৩৬ মিনিট
মহাশিবরাত্রিতে আমি আমার সকল ভাইবোনকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। আসুন সকলের জন্য শান্তি, ঐক্য, সম্প্রীতি এবং সুখের জন্য প্রার্থনা করি।
মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা, দুপুর ১ ঃ২৪ মিনিট
মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে এদিন সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ভগবান মহাদেব, সকলকে সাহায্য করুন এবং কল্যাণ করুন।ওম নমঃ শিবায়।'
পশ্চিম বর্ধমানের পানাগড়ের চবোরেশ্বর শিব মন্দিরের সেবা সমিতির কর্মকর্তারা এবার এই দিনটি বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছেন। একদিকে শৈব আরাধনায় যেমন প্রতিবারের ন্যায় পুজোপাঠ, হোম যজ্ঞ থাকছে তেমনি ভক্তদের জন্য বন্দোবস্ত হয়েছে ভোগ প্রসাদের। শিব-এর অন্যতম আরাধ্য শ্লোক হল- জীব সেবাতেই শিব সেবা, এই আরাধ্য বাক্যটিকে সামনে রেখেই নাকি ফি বছর মহাশিবরাত্রি পালনে ব্রতি হয় চবোরেশ্বর শিব মন্দিরের সদস্যরা। এছাড়াও ন্যাড়া শিবতলায় আয়োজন করা হয়েছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের। যেখানে বিনামূল্যে সকলের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বন্দোবস্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন, মহাশিবরাত্রির উপবাসে কী কী খাওয়া যেতে পারে, জেনে নিন
আরও পড়ুন, শিবরাত্রি উপলক্ষে, মহাদেবের জন্য তার প্রিয় ঠাণ্ডাই নিবেদন করুন, জেনে নিন সহজ পদ্ধতি
শিবরাত্রিতে বেলুড় মঠে ভক্তরা ঢুকতে পারবেন। তবে এর জন্য কঠোর কোভিড ১৯ বিধি তাঁদের মেনে চলতে হবে। এই দিনেই বেলুড়ে পালিত হচ্ছে রামকৃষ্ণদেবের জন্মতিথি। এর জন্য ১ মার্চ বেলুড়ে বেশকিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মন্দির দর্শন এবং মহারাজদের প্রণাম করার অনুমতি থাকলেও সন্ধ্যারতি দর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ভোগ প্রসাদ বিতরণেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বেলুড় মঠ থেকে জানানো হয়েছে সকাল ৬.৩০টা থেকে বেলা ১১.৩০টা পর্যন্ত এবং দুপুর ৩.৩০টা থেকে বিকেল ৫.৩০টা পর্যন্ত ভক্তরা ভিতরে ঢুকতে পারবেন। প্রতিটি ভক্তকে মাস্ক পরে এবং সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে চলারও নির্দেশ দিয়েছে বেলুড় মঠ কর্তৃপক্ষ।
বক্রেশ্বর ফি বছরই শিবরাত্রিতে বসে মেলা। পীঠ হিসাবে খ্যাত বীরভূমের বক্রেশ্বর। এই এলাকা এবং তাকে ঘিরে বেশকিছু শৈবধামও রয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে খ্যাত বক্রেশ্বরের শিব মন্দির। এখানে সারা বছরই কোনও না কোনও অনুষ্ঠান লেগেই থাকে। শিবরাত্রির সময় এখানে বিশাল মেলা বসে। যা ৮দিন ধরে চলে। এবারও এই মেলা বসছে। প্রশাসন থেকে অবশ্য কোভিড ১৯ বিধি কড়াভাবে লাগু করার কথা বলা হয়েছে মেলার আয়োজকদের। এই বক্রেশ্বরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক পুরাণ কথা। যা দশকের পর দশক মানুষের মুখে ফিরে ফিরে এসেছে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News