
Fatal Mistakes to Avoid During Lightning: কিছুদিন আগে বীরভূমে মাঠে ধান কাটতে গিয়ে ৪ জন, পুরুলিয়ায় সেলফি তুলতে গিয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়। কারণ একটাই - “আমার কিছু হবে না” ভাবা। বজ্রপাত কারো ফ্যান না। ওর টার্গেট উঁচু, একা, ভেজা জিনিস।
*১. গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া - সবচেয়ে কমন, সবচেয়ে মারণ*
বাজ সবসময় উঁচু জিনিসে পড়ে। তুমি ফাঁকা মাঠে গাছের নিচে দাঁড়ালে তুমি = লাইটনিং রড। গাছ বেয়ে কারেন্ট মাটিতে নামে, তুমি পাশে থাকলে তোমার শরীর দিয়ে যাবে। একে বলে “সাইড ফ্ল্যাশ”। ১০০% মৃত্যু।
*ঠিক কী করবে:* গাছ থেকে অন্তত ৩ মিটার দূরে থাকো। সবচেয়ে ভালো - পাকা বাড়ি বা গাড়িতে ঢোকো।
*২. খোলা মাঠ, ধানক্ষেত, ফুটবল মাঠে থাকা*
মাঠে তুমিই সবচেয়ে উঁচু “টাওয়ার”। বাজের কাছে তুমি VIP গেস্ট। কৃষক, প্লেয়ার, রাখাল - এরাই মরে বেশি।
*ঠিক কী করবে:* মেঘ ডাকলেই কাজ ফেলে পাকা ঘরে ঢোকো। ঘর না থাকলে নিচু জায়গায় কানে হাত চাপা দিয়ে, পা জোড়া করে, মাথা নিচু করে বসো। শুয়ে পড়বে না - মাটিতে কারেন্ট ছড়ায়।
জল কারেন্টের সুপার-কন্ডাক্টর। বাজ ১ কিমি দূরে জলে পড়লেও তুমি শক খাবে। স্নান করা, বাসন মাজা, কল ছাড়া - সব বন্ধ।
*ঠিক কী করবে:* বাজ পড়লে চান, কাপড় কাচা, বাসন মাজা বন্ধ। সুইমিং পুল থেকে সাথে সাথে ওঠো। নৌকা/মাছ ধরা বন্ধ।
*৪. ল্যান্ডলাইন ফোনে কথা বলা, চার্জ দেওয়া*:
তারওয়ালা ফোন, ল্যাপটপ চার্জে, টিভি, ফ্রিজ - বাজ পড়লে কারেন্ট তার দিয়ে ঘরে ঢোকে। ১৯৮-এ শুধু ল্যান্ডলাইনে কথা বলেই ১০০+ মৃত্যু।
*ঠিক কী করবে:* বাজ চলাকালীন সব প্লাগ খুলে দাও। মোবাইল ইউজ করতে পারো, কিন্তু চার্জে দেবে না। WiFi রাউটার অফ করো।
*৫. ছাতা, রড, গলফ স্টিক, সাইকেল নিয়ে হাঁটা*
ধাতব জিনিস = বাজের ম্যাগনেট। ছাতা মাথার ২ ফুট উপরে থাকে - পারফেক্ট টার্গেট।
*ঠিক কী করবে:* ছাতা বন্ধ করে ব্যাগে রাখো। সাইকেল/বাইক থেকে নেমে দূরে রাখো। মাথায় ধাতব ক্লিপ, কানে দুল থাকলেও রিস্ক বাড়ে।
টিন, লোহার শেড কারেন্ট টানে। ৩ দিক খোলা থাকলে সাইড ফ্ল্যাশে মরবে।
*ঠিক কী করবে:* ৪ দেওয়াল + ছাদ + ওয়্যারিং + প্লাম্বিং আছে এমন পাকা বাড়ি ঢোকো। গাড়ি সেকেন্ড বেস্ট - টায়ার ইনসুলেটর, কারেন্ট বডি দিয়ে মাটিতে যায়।
*৭. দল বেঁধে গায়ে গা লাগিয়ে দাঁড়ানো*
৫ জন একসাথে থাকলে একজনকে বাজ মারলে কারেন্ট লাফিয়ে সবাইকে মারবে। “গ্রাউন্ড কারেন্ট” ২০ মিটার পর্যন্ত যায়।
*ঠিক কী করবে:* গ্রুপ থাকলে ৩ মিটার গ্যাপে ছড়িয়ে বসো। পা জোড়া করে, কানে হাত।
*৮. শেষ বাজের পরেই বাইরে বেরিয়ে যাওয়া*
“বৃষ্টি থেমে গেছে” মানে “বাজ থেমে গেছে” না। ১০ কিমি দূরের বাজও তোমায় মারতে পারে। একে বলে “Bolt from the Blue”।
*ঠিক কী করবে:* ৩০-৩০ রুল। শেষ বজ্রপাতের আওয়াজের পর ৩০ মিনিট ঘরে থাকো।
*৯. শুয়ে পড়া বা লম্বা হয়ে বসা*
মাটিতে শুলে তোমার শরীর দিয়ে বেশি কারেন্ট যাবে। পা ফাঁক করে বসলে “স্টেপ ভোল্টেজে” দুই পায়ে ভোল্টেজের তফাৎ হয়ে শক লাগে।
*ঠিক কী করবে:* “লাইটনিং পজিশন” - পা জোড়া, হাঁটুতে থুতনি, হাত দিয়ে কান চাপা, গোড়ালির উপর ভর। মাটির সাথে কন্টাক্ট মিনিমাম।
বাজ পড়া মানুষের শরীরে কারেন্ট থাকে না। ওকে ছুঁলে তোমার শক লাগবে না। অনেকে ভয়ে ধরে না, পেশেন্ট মারা যায়।
*ঠিক কী করবে:* সাথে সাথে CPR দাও। ১০০-এ কল করো। বজ্রপাতে মৃত্যুর ৮০% কারণ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। CPR দিলে বাঁচার চান্স ৬০%।
*বোনাস: গাড়িতে থাকলে কী করবে?*
গাড়ি সেফ, যদি কনভার্টিবল না হয়। জানালা বন্ধ, হাত-পা বডি থেকে দূরে। রেডিও, মেটাল ছুঁবে না। গাছের নিচে পার্ক করবে না - গাছ ভেঙে পড়তে পারে।
*শেষ কথা - বাজ “হিরো” দেখে না*
“আমি তো গ্রামে বড় হয়েছি, কত বাজ দেখলাম” - এই ডায়লগই শেষ ডায়লগ হয়। ক্লাইমেট চেঞ্জে বাজ ৩৪% বেড়েছে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News