
আজকাল ব্যস্ত জীবনে জিমে যাওয়ার সময় পান না অনেকেই। কিন্তু শরীর সুস্থ রাখতে দামি জিম বা কঠিন ডায়েটের কোনো প্রয়োজন নেই। চিকিৎসক এবং ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজ মাত্র ৩০ মিনিট নিয়ম করে হাঁটাই আপনাকে ১০টি ওষুধের সমান উপকার দিতে পারে। সকালে খালি পেটে বা বিকেলে একটানা ৩০ মিনিট হাঁটলে শুধু শরীর নয়, মনও ভালো থাকে। চলুন জেনে নেওয়া যাক প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটার ৬টি বৈজ্ঞানিক উপকারিতা।
প্রতিদিন ৩০ মিনিট জোরে হাঁটলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং রক্তনালীতে জমে থাকা খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমতে শুরু করে। এর ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে এবং হার্টকে বেশি পরিশ্রম করতে হয় না। গবেষণা বলছে, নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে।
অনেকেই ওজন কমানোর জন্য কঠিন ডায়েট করেন, কিন্তু রোজ ৩০ মিনিট হাঁটলে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ক্যালোরি বার্ন হয়। এটি শরীরের মেটাবলিজম বাড়ায় এবং পেটের চারপাশে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি শরীরের ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক কমে।
হাঁটা শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। হাঁটার সময় মস্তিষ্ক থেকে এন্ডোরফিন ও সেরোটোনিন নামক হ্যাপি হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মন ভালো রাখে এবং দুশ্চিন্তা কমায়। যারা নিয়মিত হাঁটেন, তাদের মধ্যে ডিপ্রেশনের সম্ভাবনা অনেক কম। এছাড়া সন্ধ্যায় হাঁটলে শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে, ফলে রাতে গভীর ও শান্তিপূর্ণ ঘুম হয়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড় ক্ষয় হতে শুরু করে। প্রতিদিন হাঁটলে হাঁটু, কোমর ও গোড়ালির জয়েন্টে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং জয়েন্টের চারপাশের পেশি শক্তিশালী হয়। এটি আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে এবং অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। চিকিৎসকরা হাঁটু ব্যথার রোগীদেরও প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটার পরামর্শ দেন।
খাওয়ার পর অলসভাবে বসে থাকলে হজমের সমস্যা হয়। ৩০ মিনিট হাঁটলে পাচনতন্ত্র সক্রিয় হয়, খাবার দ্রুত হজম হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাসের সমস্যা কমে। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটলে শরীরের শ্বেত রক্তকণিকা সক্রিয় হয়, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে সহজে সর্দি-কাশি, জ্বর বা ভাইরাল সংক্রমণ হয় না।
হাঁটার সময় মস্তিষ্কে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের প্রবাহ বাড়ে। এর ফলে মস্তিষ্কের কোষগুলি আরও সক্রিয় হয়, মনোযোগ, চিন্তা করার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন হাঁটেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের মধ্যে আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি অনেক কম থাকে।
সুস্থ থাকার জন্য আপনাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে কাটাতে হবে না। রোজ সকালে বা বিকেলে মাত্র ৩০ মিনিট জোরে হাঁটার অভ্যাসই আপনার পুরো জীবন বদলে দিতে পারে। আজ থেকেই শুরু করুন, এক সপ্তাহের মধ্যেই নিজের মধ্যে পরিবর্তন টের পাবেন।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News