পকেটে টান না ফেলেই আপনার বারান্দাকে একটি সুন্দর ও আরামদায়ক জায়গায় বদলে ফেলুন। কম খরচের এই ৫টি উপায়ের মধ্যে রয়েছে ভার্টিকাল বাগান তৈরি এবং জায়গা বাঁচায় এমন আসবাবপত্রের ব্যবহার।
খুব বেশি খরচ না করেই ছোট বারান্দাকে একটি আরামদায়ক জায়গায় বদলে ফেলা সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনা আর বাজেটের মধ্যে থাকা জিনিসপত্র বেছে নিলে শহরের ছোট জায়গাও আপনার নিজস্ব শান্তির নীড় হয়ে উঠতে পারে।
আজকাল শহরে বারান্দায় বাগান করার চল বেশ বেড়েছে। এর ফলে প্রকৃতির সঙ্গে যেমন যোগাযোগ বাড়ে, তেমনই ঘরের জায়গাও যেন একটু বড় মনে হয়। কম খরচে একটু বুদ্ধি করে সাজালেই এই ছোট জায়গাগুলো দারুণ সুন্দর হয়ে ওঠে।
26
ছোট বারান্দায় সবুজের ছোঁয়া আনতে দেওয়ালের জায়গা ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো উপায়। ওয়াল প্লান্টার, ঝুলন্ত ঝুড়ি এবং রেলিং প্লান্টার ব্যবহার করলে মেঝের অনেকটা জায়গা বাঁচে, আবার অনেক গাছও রাখা যায়। দেওয়াল বা রেলিংয়ে কাপড় বা প্লাস্টিকের পকেট লাগিয়ে খুব কম খরচে গাছ লাগাতে পারেন। ভেষজ, সাকুলেন্ট এবং ছোট ফুলের গাছের জন্য এগুলো দারুণ, কারণ এদের বেশি মাটির দরকার হয় না। লতানো গাছের জন্য আপনি ট্রেলিস বা মাচা তৈরি করতে পারেন। এছাড়া পুরনো ক্রেট পরপর সাজিয়েও গাছ রাখার জায়গা বানাতে পারেন।
36
বাজেটের মধ্যে বারান্দাকে সুন্দর ও আরামদায়ক করতে সঠিক আসবাবপত্র বেছে নেওয়া খুব জরুরি। ফোল্ডিং চেয়ার-টেবিল বা একটার ওপর আরেকটা রাখা যায় এমন টুল এক্ষেত্রে দারুণ কাজে আসে। দরকার না থাকলে এগুলো সহজেই সরিয়ে রাখা যায়। এমন আসবাব বাছুন যেগুলো দেখতে ছোট কিন্তু বসতে আরামদায়ক, এতে বারান্দা বেশ খোলামেলা মনে হবে। খরচ আরও কমাতে চাইলে কাঠের প্যালেট দিয়ে বসার জায়গা বানিয়ে তার ওপর সুন্দর কুশন ফেলে দিতে পারেন।
46
সন্ধে নামলেই বারান্দার পরিবেশ বদলে দিতে পারে সঠিক আলো, আর এর জন্য খুব বেশি খরচও হয় না। স্ট্রিং লাইট, ফেয়ারি লাইট বা সৌরবিদ্যুতে চলা আলো খুব সহজেই পাওয়া যায়, যা একটা স্নিগ্ধ আবেশ তৈরি করে। আসল মোমবাতির বদলে লণ্ঠনের ভেতর এলইডি মোমবাতি ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো যেমন নিরাপদ, তেমনই পকেট-বান্ধব। বারান্দার সৌন্দর্য বাড়াতে এই আলোগুলো ছাদ থেকে ঝোলাতে পারেন বা রেলিংয়ে জড়িয়ে দিতে পারেন।
56
বারান্দাকে ঘরেরই একটা অংশ মনে করতে চাইলে সেখানে নরম কাপড় ও কুশনের ব্যবহার করুন। মেঝেতে একটা আউটডোর রাগ বা শতরঞ্জি বিছিয়ে দিলে জায়গাটা আরও সুন্দর ও আরামদায়ক হয়ে ওঠে। বসার জায়গায় আবহাওয়া-সহনশীল কুশন ও থ্রো রাখলে তা যেমন আরাম দেয়, তেমনই বারান্দায় রঙের ছোঁয়া আনে। নানা ধরনের কাপড়ের এই ব্যবহার আপনার বারান্দাকে আক্ষরিক অর্থেই একটা শান্তির জায়গা করে তুলবে।
66
সঠিক গাছ এবং টব বেছে নিলে খরচ অনেকটাই কমানো যায়। এমন গাছ বাছুন যাদের বেশি যত্ন লাগে না। পুদিনা, তুলসী বা থাইমের মতো ভেষজ বা পাতা বাহারি গাছ টবে খুব ভালো বাড়ে এবং এদের বেশি জায়গাও লাগে না। পুরনো কৌটো, জল দেওয়ার ক্যান বা কাঠের ক্রেটকে টব হিসেবে ব্যবহার করলে বারান্দায় একটা নতুন লুক আসে, আর খরচও বাঁচে। নতুন গাছ না কিনে, মরসুম অনুযায়ী ঘরের ভেতরের গাছগুলোকেও বারান্দায় এনে সাজাতে পারেন।