আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো হার্ট। বর্তমানে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হৃদরোগ। তবে রোজকার জীবনে কিছু নিয়ম মেনে চললে আপনি সহজেই হার্ট সুস্থ রাখতে পারবেন। হার্ট ভালো রাখার ৭টি উপায় আজ আমরা আলোচনা করব।
মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো হৃদরোগ। আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এই হার্ট। তাই হার্ট সুস্থ রাখাটা ভীষণ জরুরি। হার্ট ভালো রাখতে আপনাকে কী কী করতে হবে, তা নিয়েই আজ আমরা কথা বলব।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস আপনার হার্টকে সুরক্ষিত রাখে। এটি রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। রোজকার ডায়েটে সবুজ শাকসবজি, গোটা শস্য এবং তাজা ফলমূল রাখুন। ওজন যাতে না বাড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
হৃদরোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ধূমপান এড়িয়ে চলা। ধূমপানের কারণে মানুষের আয়ু ১৫ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত কমে যেতে পারে। হার্ট ভালো রাখতে চাইলে আজই সিগারেট বা তামাকজাত দ্রব্য বর্জন করুন। আপনি নিজে ধূমপান না করলেও, অন্যের ধূমপানের ধোঁয়া (সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোক) থেকে নিজেকে দূরে রাখবেন।
প্রতিদিনের ব্যায়াম হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে দারুণ কাজ করে। শারীরিক পরিশ্রম আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো সমস্যাগুলো দূরে রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন। এটি আপনার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য দুটোই ভালো রাখবে।
অতিরিক্ত ওজন, বিশেষ করে পেটের মেদ হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস হতে পারে। শরীরের ওজন মাত্র ৩% থেকে ৫% কমালেও রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমে যায়। এটি ব্লাড সুগার কমায় এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি দূর করে। ওজন কমালে রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক, ডায়াবেটিস এবং বিষণ্ণতার ঝুঁকি বাড়ে। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন রাতে অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। শিশুদের ক্ষেত্রে আরও বেশি ঘুমের দরকার হয়। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
টানা মানসিক চাপ আপনার রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে। অনেকেই স্ট্রেস কাটাতে বেশি খাওয়া, মদ্যপান বা ধূমপানের মতো খারাপ অভ্যাস বেছে নেন। এর বদলে মানসিক চাপ কমানোর স্বাস্থ্যকর উপায়গুলো খুঁজে বের করুন। এতে আপনার শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকবে।
নিয়মিত ব্লাড সুগার, রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল পরীক্ষা করান। এই চেকআপগুলোর মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার শরীরের বর্তমান অবস্থা কেমন এবং ভবিষ্যতে কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন আছে কি না।